টোয়াব (TOAB)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জনাব মোহাম্মাদ হানিফ- ভাইকে কে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আপনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে টোয়াব এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক ট্যুরিজম সেক্টর একটি স্মার্ট ও আন্তর্জাতিক মানের শিল্পে রূপান্তরিত হবে, এটি আমার দৃঢ় বিশ্বাস। বাংলাদেশের ট্যুরিজম সেক্টরের আরও কর্মমুখী করতে আমার কিছু ভবিষ্যৎ রূপরেখা আপনার সাথে শেয়ার করছি। আশা করছি আপনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে টোয়াব আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বর্তমানে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। এই সেক্টরকে বিশ্বমানের করতে এবং টোয়াব-কে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে আগামী দিনগুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বা ভিশন আপনার কাছে নিচে তুলে ধরা হলো:
*** স্মার্ট ট্যুরিজম ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর : বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর। আমাদের লোকাল ট্যুর অপারেটরদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এই স্মার্ট ট্যুরিজম ও প্রযুক্তি সাথে না মিলাতে আমার এক সময়ে হারিয়ে যেতে পারি। আধুনিক বিশ্বে এখন সব কিছু প্রযুক্তিনির্ভর তা নিচের ধাপে ধাপে আমার চাইলে আরও প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারি।
১। ডায়নামিক ওটিএ (OTA) প্ল্যাটফর্ম: সদস্যদের নিজস্ব আধুনিক টেকনোলজি নির্ভর ওটিএ প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সহায়তা করা। যা টোয়াব ধারা পরিচালিত হতে পারে বা সহযোগিতা করে তাদের প্রযুক্তিনির্ভর ওটিএ (OTA) প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে দেশী উদেক্তাদের সহযোগিতা টোয়াব দ্বারা সহায়তা করা যেতে পারে।
২। এপিআই (API) ও গ্লোবাল বুকিং: আন্তর্জাতিক গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (GDS) এবং এপিআই (API) ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে হোটেল ও ফ্লাইট বুকিং সিস্টেমকে স্বয়ংক্রিয় করা। যে একজন টোয়াব মেম্বার সহজে করতে পারে না গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম বিভিন্ন রোল ও খরচের কারণে। সেখানে টোয়াব চাইলে নিজের সাথে চুক্তি করে টোয়াব মেম্বারদের সহযোগিতার মাধ্যামে সহজ করন বা টোয়াব ধারা পরিচালিত হতে পারে।
৩। সেন্ট্রাল ট্রাভেল ডেটাবেস: টোয়াব সদস্যদের জন্য একটি সেন্ট্রালাইজড টেকনোলজি হাব তৈরি করা, যেখানে সব ধরনের ইনভেন্টরি সহজে ম্যানেজ করা যাবে।
*** আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং এবং গ্লোবাল ব্র্যান্ডিংঃ বাংলাদেশের পর্যটনকে শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দিতে হবে। যেন দেশের পর্যটন শিল্পকে বাচাতে পারি আমার। এই দেশের পর্যটন শিল্প অনেক অবেহেলিত সেটাকে টোয়াব চাইলে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবে। তার জন্য নিচের কাজ গুলো আমাদের করতে হবে।
১। স্ট্র্যাটেজিক হাব তৈরি: থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইউএই (UAE)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ট্রাভেল হাবগুলোতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ব্র্যান্ডিং বাড়ানো।
২। ইনবাউন্ড ট্যুরিজম বৃদ্ধি: বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ফেয়ার ও রোড শো-তে টোয়াব-এর অংশগ্রহণ আরও জোরালো এবং প্রতিনিধিত্বমূলক করা।
৩। ক্রস-বর্ডার পার্টনারশিপ: আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম বোর্ডগুলোর সাথে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে দেশের অপারেটরদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা।
*** বিটুবি (B2B) ইকোসিস্টেম এবং সদস্য উন্নয়নঃ টোয়াব সদস্যদের নিজেদের মধ্যে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। যেটা কিছু নিদিষ্ট নিয়মে চলতে পারে।
১। সেন্ট্রাল বিটুবি (B2B) পোর্টাল: একটি আধুনিক ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি করা, যার মাধ্যমে বড় ও ছোট সব ধরনের ট্রাভেল এজেন্সি একে অপরের সাথে সহজে ব্যবসা, আইটিনারি এবং প্যাকেজ বিনিময় করতে পারবে।
২। ভেন্ডর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: ট্রান্সপোর্ট, হোটেল এবং অন্যান্য সার্ভিস প্রোভাইডারদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করা।
*** সহজ পলিসি এবং এভিয়েশন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণঃ ট্যুর অপারেটরদের ব্যবসার সুবিধার্থে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জোরালো লবিং করা যে এখন টোয়াবের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অনেক দিন ধীরে সরকারের বিভিন্ন ব্যাক্তির সেচ্ছাসারিতায় পর্যটন শিল্প অনেক ধস নেমে গেছে, যা আমাদের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জোরালো লবিং করে পর্যটন কে বাচাতে হবে। আমারা চাইলে সরকারকে এই ভাবে প্রস্তাব দিতে পারি।
১। ই-ভিসা (e-Visa) বাস্তবায়ন: সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে বিদেশী পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা এবং অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজীকরণ।
২। যৌক্তিক এয়ারফেয়ার: আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট রাউটিং এবং টিকিটের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে শক্ত অবস্থান তৈরি করা এবং টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙা।
*** দক্ষ জনশক্তি তৈরিঃ একটি সার্ভিস-ভিত্তিক শিল্প হিসেবে দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশে বিদেশি পর্যটক কে সেবা দিতে দক্ষ জনশক্তির অনেক অভাব। মানসম্মত দক্ষ জনশক্তির অভাবে এই দেশে বিদেশি পর্যটক আসতে ভয় পায়। সেটাকে দূরীকরণে আমাদের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।
১। প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট: ট্রাভেল আইটিনারি প্ল্যানার, ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এবং কাস্টমার রিলেশনে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা।
২। গাইড: প্রফেশনাল এবং মাল্টি-লিঙ্গুয়াল ট্যুর গাইড তৈরির জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগ নেওয়া।
*** নতুন গন্তব্য আবিষ্কার ও সাসটেইনেবল ট্যুরিজমঃ অনেক দেশের অনেক স্থান আছে কিন্তু সেটা একবার গেলে আর জেতে চাই না। অনেক স্থান আছে যা আমাদের পরিচযা কারণে আমার যেতে বা কেউকে পাঠাতে পারি না। তাই আমাদের নতুন গন্তব্য আবিষ্কার ও সাসটেইনেবল ট্যুরিজম ইস্পট বানাতে হবে।
১। অফ-বিট ডেস্টিনেশন প্রমোশন: গতানুগতিক গন্তব্যের বাইরে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা নতুন স্পটগুলোকে পর্যটক-বান্ধব করে তোলা।
২। ইকো-ট্যুরিজম: পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করতে এবং লোকাল কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা।
জনাব প্রেসিডেন্ট, আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে এই রূপরেখাগুলো বাস্তবায়িত হলে টোয়াব একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং ট্যুরিজম সেক্টরের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ—সব ব্যবসায়ী সমানভাবে উপকৃত হবেন। দেশের ট্যুরিজম সেক্টরের উন্নয়নে এবং টোয়াব-এর যেকোনো ডিজিটাল ও গঠনমূলক পদক্ষেপে সিয়াম হলিডেজ সবসময় আপনার পাশে থেকে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। আপনার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।
বাবুল উদ্দিন
ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, সিয়াম হলিডেজ
মেম্বার, টোয়াব।