ঢাকা, , ৪ আগস্ট, ২০২০

তাহলে তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায়ও অসাংবিধানিক: নজরুল ইসলাম খান

Sunday,15 May 16 07:50:43

অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখার বৈধতা নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের বৈধতা থাকল কি না- সে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।
 
বুধবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আজ পত্রিকায় এসেছে, দেশের প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে, অবসর গ্রহণের পর যে রায় লেখা হয়, সেই রায় বেআইনি এবং অসাংবিধানিক।
 
“তাহলে যে রায়ের রেফারেন্স দিয়ে আপনারা পঞ্চদশ সংশোধনী করলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দিলেন; সেই রায় তো আজকের প্রধান বিচারপতির ভাষায় বেআইনি ও অসাংবিধানিক।”
 
প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্যের পর পঞ্চদশ সংশোধনী ‘বাতিলযোগ্য হয়ে গেছে’ এবং বাংলাদেশের জনগণও ‘তা-ই চায়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা নজরুল।
 
সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগ। তবে এর আওতায় আগামী দুটি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে মত দেয়া হয়।
 
আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির ওই রায়কে ভিত্তি ধরেই সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার, যাতে বিলুপ্ত হয় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।
 
ওই সময় সংক্ষিপ্ত রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলে, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ রেখে সংসদ এ সরকার পদ্ধতি সংস্কার করতে পারে।
 
খায়রুল হক ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয় পূর্ণাঙ্গ রায়।
 
এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির পাশাপাশি ৫৫টি সংশোধনীসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রস্তাব পাস হয় জাতীয় সংসদে।
 
মঙ্গলবার দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে একবছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রায় লিখতে কোনো কোনো সহকর্মীর দেরিতে উষ্মা প্রকাশ করে বিচারিক এই দায়িত্ব কর্মজীবনেই শেষ করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
 
“কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘদিন পর পর্যন্ত রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধান পরিপন্থি।”
 
প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি শপথ নেন বিচারপতি এস কে সিনহা
 
জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
 
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ত্রয়োদশ সংশোধনী বিল বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বিএনপির সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন করে খুবই কমই তারা (আওয়ামী লীগ) জিততে পেরেছেন; যার জন্য তারা চান না সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কিংবা বিএনপি যেন নির্বাচনে আসে।
 
“বহুবছর ধরে আমরা বলে আসছি, নির্বাচন করার যে বিধান জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সবার সম্মতিতে করা হয়েছে, তা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচন যাবে না।”
 
“তারপরও করলেন আপনারা (আওয়ামী লীগ)। কী বলেছেন? আদালতের রায়ে আছে। অথচচ আজকে প্রধান বিচারপতি বলেছেন অবসরের পর রায় লেখা বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থি।”
 
তিনি বলেন, “ওই সময়ে যখন প্রধান বিচারপতি চাকরিতে ছিলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছিল, আগামী দুটা নির্বাচন ত্রয়োদশ সংশোধনীর আওতায় অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা হউক।
 
“তা তো করনেনি। মানেনি এই কারণে যে আপনারা সন্ত্রস্ত। আপনারা জানেন, জনগণকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে জনগণ আপনাদের ভোট দেবে না।”
 
এসময় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ভোট দেওয়ার সুযোগও সরকার দেয়নি অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ ‘জোর করে ক্ষমতায়’ বসে আছে বলে দাবি করেন তিনি।
 
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জীবন দর্শন অনুসরণ করে ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার’ জন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম খান।
 
“স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আমাদের শপথ নিতে হবে তিনি (জিয়া) যেমন একদলীয় স্বৈরাশাসনের ওপর গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিলেন, তেমনি আমরাও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবো ইনশাল্লাহ।”
 
স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সুপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুসহ মহানগর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলার’ কারণে তারা অনুষ্ঠানে আসতে না পারায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেনও তিনি।
 
সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মুনির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম পটু, আসাদুজ্জামান সেচার, সাদ রাজ জামান, এ এম শামীম, লিটন মাহমুদ, সাহাবুদ্দিন মুন্না, কাজী রহমান মানিক ও রফিক হাওলাদার বক্তব্য রাখেন।

পাঠকের মন্তব্য