ঢাকা, , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পুলিশকে জনগণের সেবক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Sunday,15 May 16 07:50:43

সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই পুলিশ বাহিনীকে দেশের মানুষের ‘সেবক’ হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বাহিনীর কাজের ব্যাপ্তি বাড়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পুলিশকে জনগণের সেবক হতে হবে।

“প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়াতে হবে, যেন মানুষ ভরসা পায়।”

পুলিশের হাতে সম্প্রতি দুই সরকারি কর্মকর্তা নির্যাতিত হওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মধ্যেই সরকারপ্রধানের এই তাগিদ এলো।

১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম পুলিশ সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ থেকে একটি অংশ এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা।

“বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশি শোষকদের পুলিশ নন, জনগণের পুলিশ। আপনাদের কর্তব্য জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা। আপনাদের বাহিনী এমন যে, এর লোক বাংলাদেশের গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। আপনাদের নিকট বাংলাদেশের মানুষ একটি জিনিস চায়। তারা যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারে। তারা আশা করে, চোর বদমাইশ, গুণ্ডা, দুর্নীতিবাজ যেন তাদের উপর অত্যাচার করতে না পারে। আপনাদের কর্তব্য অনেক’।”

বঙ্গবন্ধুর সেই বক্তব্য মনে রেখে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেবল চুরি-ডাকাতি, হত্যা-রাহাজানি বন্ধ করা নয়; সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মাদক পাচার এবং পণ্য চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনীকে ‘আরও শক্ত’ ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক তাকে স্বাগত জানান।

পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী কুজকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। প্যারেডে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।

বাংলাদেশে এই প্রথম একজন নারী পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে নেতৃত্ব দিলেন। সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য এই পারেডে অংশ নেন।

২০১৫ সালে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে ‘প্রশংসনীয় অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন।

এবার ১৯ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম), ২৩ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা ও ৪০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পদক দেওয়া হয়। এছাড়া ছয়জনকে দেওয়া হয় মরণোত্তর পদক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ হাসিনা একাত্তরের ২৫ মার্চ রাজারবাগে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় শহীদ পুলিশ সদস্যের এবং মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামাত-শিবিরের সহিংসতা ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায়’ ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৬ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনই পুলিশ সদস্য।

“পবিত্র সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন রক্ষার জন্য এ আত্মত্যাগ বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের এই অবদান চিরদিন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বরেন, “কিন্তু পুলিশ বাহিনীর ওপর বারবার আঘাত আসে।”

গতবছরের শুরুতে বিএনপি-জামাতের অবরোধের মধ্যে দেশজুড়ে নাশকতা দমনে পুলিশের ভূমিকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আমি আবারও ধন্যবাদ জানাই। বিএনপি-জামাতের অনৈতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে আপনারা সুদৃঢ় এবং সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পুলিশের জনবল বাড়িয়ে দেড় লক্ষাধিকে উন্নীত করেছে।

“গত সাত বছরে আমরা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৯টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার ৩১টি পদ সৃষ্টি করেছি। তথাপিও দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয়। সে বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশ পুলিশে আরও ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

“ইতোমধ্যে ২৭৭টি ক্যাডার পদসহ ১৩ হাজার ৫৫৮টি পদে পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি জনবলের নিয়োগ কার্যক্রম অচিরেই সম্পন্ন করা হবে।”

জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ যেভাবে সক্রিয়, তাতে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে নাই।”

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘ঠিক’ রেখে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখায় ভূমিকার জন্যও পুলিশের প্রশংসা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে জোরদার করার কথা বলেন।

জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা পুলিশের ঝুঁকি ভাতা প্রবর্তন করেছি। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির যে ধারা আমরা সূচনা করেছি, তা ইনশাল্লাহ অব্যাহত রাখা হবে।

পাঠকের মন্তব্য