ঢাকা, , ২৯ নভেম্বর, ২০২০

সশস্ত্র বাহিনী দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

Sunday,15 May 16 07:50:43

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সেনাবাহিনীকে সময়ের সাথে তাল মিলেয়ে ঐকটি দক্ষ, সুশৃংখল এবং শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে সরকার কাজ করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ এর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফোর্সেস গোল ২০৩০ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর আলোকে সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো বিন্যাস ও পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৯ম টাহগার্স পুর্নমিলনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।

তিনি বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত দেশ। সেভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে কাজ করা আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে সেনাবাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণ করাই সেনাবাহিনীর দায়িত্ব।

এর আগে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে শেখ হাসিনাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবতরণ করে। পরে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নবম পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিকাল তিনটা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনানিবাসের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী অক্সিজেন থেকে কাপ্তাই রাস্তা পর্যন্ত সিডিএ নির্মিত বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ম্যুরাল, কদমতলী ফ্লাইওভারের উদ্বোধন এবং একই সময়ে বাইপাস সড়ক এবং রিং রোডের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

বিকেল সাড়ে তিনটায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধন এবং দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় ফিরে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারের পুর্নমিলনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন এবং কুচকাআওয়াজ পরিদর্শনের মাধ্যমে সালাম গ্রহণ করবেন। এসময় সাহসীপূর্ণ অবদানের জন্য সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিটকে পতাকা তুলে দেবেন। এরপর সেখানে মধ্যাহ্নভোজন ও যোহরের নামাজ আদায় শেষে বিকেলে পৌণে তিনটার দিকে সিডিএর ৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করতে সড়কপথে অন্যনা আবাসিক এলাকায় আসবেন। সেখানে তিনি নগরীর অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ এবং কুয়াইশ রাস্তার মাথায় স্থাপিত দেশে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় ম্যুরালটি উদ্বোধন করবেন।

পরে কদমতলী ওভারপাসের উদ্বোধন, আউটার রিং রোড, বায়েজিদ বোস্তামি বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেলে চট্টগ্রাম চেম্বারের একশ’ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগদান এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো চট্টগ্রামকে। প্রধানমন্ত্রী যে এলাকা দিয়ে যাতায়াত করবেন সেই সব এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শনিবার ফিরে গেলেও রোববার চট্টগ্রামে আসবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে যোগ দেবেন তিনি

পাঠকের মন্তব্য