ঢাকা, , ৪ আগস্ট, ২০২০

কিছু গেল জলে, বাকি সব খেলো শকুনে!

টাইমসনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Sunday,26 July 20 04:32:11

মোঃ জুয়েল রানাঃ নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া।যে দ্বীপে প্রায় সাড়ে  সাত লাখ মানুষের বসবাস।দ্বীপের হাজারো সমস্যার মাঝে অতিবাহিত হচ্ছে এদের সংগ্রামী জীবন।সারা দেশের ন্যায় প্রতি পাঁচ বছর পর পর সংসদ নির্বাচন হয় এই দ্বীপেও, আর জনগনকে নানান ধরনের উন্নয়নমূলক আশ্বাস দিয়ে নির্বাচিত হোন নতুন অভিভাবক।নির্বাচন শেষে জনগনকে দেয়া আশ্বাসকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাতে ভুল করেননা জনপ্রতিনিধিরা।নামে মাত্র সামান্য কিছু উন্নয়নের কালো মেঘে ডাকা পড়ে যায় হাজারো সমস্যা।নেতারা হয়ে যান ধনবান আর জনগন ছাড়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস।

হাতিয়া দ্বীপের অগুনিত সমস্যার মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে প্রধান সমস্যার একটি!

হাতিয়ার যাতায়াত ব্যবস্থার চরম অবনতির জন্য সাধারন মানুষেরা নিজেদের ভাগ্যকে দায়ী করলেও এটা কতটা যৌক্তিক?হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এখনও রয়ে গেছে মাটির রাস্তা যা বর্ষকালে হয়ে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী।বিভিন্ন গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খাল,যে খাল গুলোতে জোয়ার ভাটা হয় নিয়মিত।আর এই খাল গুলো পারাপার হওয়ার জন্য নেই কালভার্ট!রয়েছে বাঁশ কিংবা গাছের সাঁকো যা, উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রে বড্ড বেশি বেমানান!কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনও রয়ে গেছে অসংখ্য সাঁকো যা পারাপারের জন্য মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ।

 

এমনি একটি সাঁকোর কথা শুনলে শিউরে উঠবেন যে কেউই।হাতিয়া তমরদ্দি ইউনিয়নের জোঠখালি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বেশ বড় একটি খাল যা কাঠাখালি খাল নামে পরিচিত।যে খালটি পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সাঁকো।যা দ্বারা জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।সাঁকোটা অনেক বৃহৎ হওয়ায় যে কারো পক্ষে এটি পার হওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনা।শুধু মাত্র একটি গাছ বা বাঁশের এই সাঁকোটি পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা।সাঁকোটির পাশে প্রায়ই বসে থাকতে দেখা যায় কোননা কোন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে কেননা অন্য কারো সহযোগীতা ছাড়া এই মরণ ফাঁদ পার হওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব।

 

এছাড়াও এই ঝুঁকিপূর্ণ  সাঁকোটি পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যান হাজার হাজার শিক্ষার্থী।সাঁকো পারাপারের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা বাদ দিয়ে নিমজ্জিত হয়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে!অনেক অভিভাবকের শত ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না তাদের আদরের সন্তানদের!যার ফলে এই এলাকায় নিরক্ষরতার হার দিন দিন বেড়েই চলছে!সাঁকোটির পরিবর্তে জন প্রতিনিধিদের কাছে যুগ যুগ ধরে একটি নিরাপদ কালভার্টের দাবী ছিল এলাকাবাসীর।সবশেষ ২০০৩ কিংবা ৪ সালে এখানে একটি কালভার্ট নির্মানের কাজ শুরু হলে এলাকাবাসীর আনন্দের যেন সীমা নেই।

 

অতি দ্রুত হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে সকল দুঃখ কষ্টের অবসান।কিন্তু না! মাত্র কয়েকটি পিলার তোলার কাজ শেষ হতেই না হতেই কোন এক ধমকা হাওয়ায় নিভে গেল আশার বাতি,দূর্ভোগ যেন স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিল দূর্ভাগাদের অভিশপ্ত জীবনে।তবে সরজমিনে কাজ বন্ধ হওয়ার কারণ খুঁজতে গেলে এলাকাবাসী প্রতিহিংসার রাজনীতিকেই দায়ী করলেন।তাদের দাবী রাজনৈতিক নেতাদের কারণে এই উন্নয়ন কাজটি বন্ধ হয়ে গেছে।এর সত্যতা জানার জন্য জন্য তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ আজহার কে ফোন করলে তিনি জানান এই কালভার্ট নির্মানের দায়িত্ব পান ঢাকার এক কন্ট্রাকটর।মনির চেয়ারম্যান বিএনপি দলীয় হওয়ায় তিনি আবার মনির চেয়ারম্যানকে কাজ করার দায়িত্ব দেন।

 

কাজ শুরু হওয়ার কয়দিন পর এক প্রভাবশালী নেতা কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে একটি দরখাস্ত জমা দেন।তারি সূত্র ধরে তদন্ত কমিটি এসে তদন্ত করে ৬ টি রড়ের জায়গায় ৫ টি রড় পাওয়ার অভিযোগ দিয়ে কাজটি বন্ধ করে দেন।এ ব্যাপারে তমরদ্দি ৪ নং ওয়ার্ডের তৎকালীন মেম্বার জানান ঢাকায়া কন্ট্রাকটর কালভার্টটি নির্মানের কাজ ফেলে মনির চেয়ারম্যানের সাথে তার সুসম্পর্ক থাকায় তিনি তাকে দায়িত্ব দেন।তখন মনির চেয়ারম্যান সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।কালভার্টের কাজ চালু অবস্থায় মনির চেয়ারম্যান মোঃ আলী এমপির দলে যোগ দেন।

 

তাকে কেন্দ্র করে এলাকার বিএনপি নেতা কর্মীরা মনির চেয়ারম্যান থেকে চাঁদা দাবি করেন।তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়।তার কয়েকদিন পর কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মতিন একটি দরখাস্ত জমা দেন।তার পর তদন্ত কমিটি এসে মেশিন দ্বারা কালভার্টের পিলারগুলো চেক করে উপরে ছয়টি রড় ফেলেও নিচে ৫ টি রড দেয়া হয়েছে বলে জানান।

 

পরে এলাকাবাসী সহ বর্তমান মেম্বার তাদেরকে কাজ বন্ধ না করার জন্য অনুরোধ জানালেও তাদের কিছুই করার নেই বলে জানিয়ে দেন।কাশেম মেম্বার এটিকে একটি ঘৃণিত সিদ্ধান্ত অাখ্যায়িত করে আরো বলেন তখন তাদের সরকার বিএনপি ক্ষমতায় থাকার কারণে তাদের এই চক্রান্তটি সফল হয়েছে, যা ছিল অমানবিক।তাদের এই নোংরা রাজনীতির বলি হয়েছেন এই এলাকার হাজারো জনগন ও শিক্ষার্থীরা।

পরিশেষে তিনি  অত্র এলাকার সাধারন মানুষের দূর্ভোগের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় এনে কাঠাখালি খালের উপর দিয়ে অতি দ্রুত একটি নিরাপদ কালভার্ট তৈরীর দাবি জানান বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে।

পাঠকের মন্তব্য