ঢাকা, , ৪ আগস্ট, ২০২০

জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: ফখরুল

টাইমসনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Thursday,23 July 20 12:23:52

একাত্তরের মতো জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশস (বিএনআরসি) এর উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজের স্মরণে ‘স্বায়ত্বশাসনের সংগ্রামকে স্বাধীনতা যুদ্ধের রুপান্তরে শাহজাহান সিরাজ এর ভুমিকা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আজকে গোটা দেশের মানুষ এখন মৃত্যু আতঙ্কে ভুগছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আজকে গোটা দেশের মানুষ জীবিকার চিন্তায় তারা অস্থির হয়ে আছে। আজকে গোটা দেশের মানুষ তাদের যে মৌলিক অধিকার, যে ভোট দিয়ে তারা তাদের নেতা নির্বাচন করবেন, পার্লামেন্ট নির্বাচন করবেন, সরকার নির্বাচন করবেন, তাদের ভবিষ্যতকে তারা দেখবেন সেই জায়গাটুকু পর্যন্ত আজকে হরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের আহবান জানান তিনি।তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব শাহজাহান সিরাজ সাহেবের প্রতি আমরা তখনই শ্রদ্ধা জানাতে পারবো তার যে আরাধ্য ছিলো, তিনি যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন এবং সবাই যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশকে যদি আমরা নির্মাণ করতে চাই আজকে আবার ১৯৭১ সালের মতো আমাদেরকে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। এই ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে ওই সময়কার সত্যিকার অর্থের যে চেতনা সেই চেতনাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত বাস্তবায়িত করতে পারবো। সেটাই হবে শাহজাহান সিরাজের প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা জানানো। ফখরুল বলেন, আমরা খুব কষ্ট পাই, দুঃখ পাই যখন দেখি যে, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীরযোদ্ধা, বীর সংগ্রামী যারা তাদের জীবনকে বাজি রেখে সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন যারা চলে গেছেন বেঁচেও নেই তাদের সম্পর্কে যখন আলোচনা ওঠে সেই আলোচনা যখন আমরা দেখি যে, সেই মহান ব্যক্তিকে যিনি এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান রেখেছেন তাকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি কয়েকদিন আগে কয়েক বাংলাদেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী কিছু লেখা লিখেছেন শাহজাহান সিরাজের সম্পর্কে। আমি নাম বলতে চাই না। শুধু এইটুকু বলতে চাই একজন মানুষকে তার যেটুকু পাওনা সেটুকু দেয়া প্রত্যেকটা রাজনৈতিক নেতা, প্রত্যেকটা সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ সকলের দায়িত্ব বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকের দায়িত্ব যারা আমাদেরকে একটা স্বাধীন দেশ দেয়ার জন্য তারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, শাহজাহান সিরাজ তার সারাজীবনের মধ্যে কী কাজ করেছেন আমি জানি না। তবে একটি জিনিসের জন্য তিনি বাংলাদেশে বেঁচে থাকবেন যতদিন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মাটি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা থাকবে- সেটি হলো তেসরা মার্চ। সারা বাংলাদেশে সেদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়েছিলো যেটা দোসরা মার্চ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করেছিলাম এবং বলা হয়েছিলো তেসরা মার্চ পাকিস্তানের পতাকা পুঁড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করতে হবে। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সামনে রেখে সিরাজুল আলম খানের নির্দেশে শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতা ইশতেহার পাঠ করেছিলেন। আজকে ৫০ বছর পরে ৭ মার্চ ঐতিাসিক দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত হয়। কেনো এই ৫০ বছর কী হয়েছে? স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমরা ছাত্রলীগের মধ্যে যারা গণতান্ত্রিক বলে পরিচিত ছিলাম, আমরা সবসময় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতাম। আমরা বিশ্বাস করতাম একটা জাতীয় ম্যান্ডেট প্রয়োজন। স্বাধীনতার ডাক বঙ্গবন্ধুও যদি দেয় তাহলেও এটা বিচ্ছিন্নতাবাদে পরিণত হবে। যদি একটি নির্বাচনের ম্যান্ডেট আমরা গ্রহন করতে না পারি। কথাটাকে টুইস্ট করে বললে অবিচার হবে, কথাকে টুয়িস্ট করে বললে ইতিহাসের বিকৃত হবে। আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম মানুষের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে একটি নেতেৃত্বের মাধ্যমে মানুষের আনুগত্য ঘোষণার মধ্যে, একটি ম্যান্ডেটের মধ্যে সমস্ত জাতির ঐক্যের মাধ্যমে। ’৭০ এর ম্যান্ডেন্ট পাওয়ার আগে যদি আমরা স্বাধীনতার শ্লোগান দিতাম, ম্যান্ডেট পাওয়ার আগে যদি আমরা স্বাধীনতা প্রথম পরিক্রমায় অংশ নিতাম তাহলে জনগণও আমাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী ভাবতো এবং পাকিস্তানি শত্রুরা আমাদের আক্রমন করতে সুযোগ নিয়ে নিতো আরো… । বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধ- আমাদের টেবিলে আলোচনায় আমাদের স্বাধীনতা আসেনি। এটা ছিলো জনযুদ্ধ। ফলে জনযুদ্ধে জনগণের যে ভূমিকা সেটা বাদ দিলে সেই ইতিহাস কখনো সম্পূর্ণ ইতিহাস হয় না। প্রবাসে প্রথম ঘোষণা দিয়েছিলো যে, আমরা তিনটা কথা বলে সেই যুদ্ধ করেছি-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার। স্বাধীনতা উত্তরকালে সংবিধানে বলা হয়েছিলো গণতন্ত্র, শোষনহীন সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্বাধীন জাতীয় বিকাশে জাতীয়তাবাদ। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সাংসদ জহিরউদ্দিন স্বপনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, নাগরিক নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

পাঠকের মন্তব্য