ঢাকা, , ২ ডিসেম্বর, ২০২০

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় ১১ জনের ২০ বছর করে কারাদণ্ড

টাইমসনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Sunday,29 October 17 01:33:22

রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ফ্রিডম পার্টির ১১ জন সদস্যকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলায় একজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

দণ্ডবিধির দুটি ধারায় তাদের এ সাজা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১১ জনকে দুটি ধারায় মোট ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রোববার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের অস্থায়ী আদালতের বিচারক ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফ্রিডম পার্টির ১১ সদস্যকে দণ্ডবিধি ১২০(খ) এবং ৩০৭ ধারায় ১০ বছর করে ২০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। একটি রায় কার্যকর হওয়ার পর আরেকটি কার্যকর হবে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ মাহমুদ হাসান বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, জজ, ফ্রিডম সোহেল, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ, গাজী ইমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, মিজানুর রহমান, হুমাউন কবির (পলাতক), মো. শাজাহান বালু (পলাতক), লেফটেনেন্ট কর্নেল আবদুর রশীদ (পলাতক), জাফর আহম্মদ ওরফে মানিক (পলাতক)। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে খালাস প্রদান করেন আদালত।

এর আগে ১৫ অক্টোবর শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও ১৬ অক্টোবর বিস্ফোরক আইনে মামলার রায়ের জন্য আজকের দিন (২৯ অক্টোবর) ধার্য করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। তিনি তখন ওই বাসায়ই থাকতেন এবং ঘটনার সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। ওই ঘটনায় বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল ৩২ নম্বরের বাড়িতে অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা করে এবং ‘কর্নেল ফারুক-রশিদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যায়।

১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার ১৩ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, জজ, ফ্রিডম সোহেল, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ, গাজী ইমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির (পলাতক), হুমাউন কবির , মো. শাজাহান বালু (পলাতক), লেফটেনেন্ট কর্নেল আবদুর রশীদ (পলাতক), জাফর আহম্মদ ওরফে মানিক (পলাতক)।

পাঠকের মন্তব্য