ঢাকা, , ২৮ অক্টোবর, ২০২০

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসসহ ৫ প্রকল্প অনুমোদন

Tuesday,24 October 17 07:38:04

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত ২৪ কি.মি. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর বাইরে ৫৬৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মোট পাঁচ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে ৩০ জেলার সংযোগ স্থাপনকারী আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডোরে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুসারে প্রস্তাবিত এলাইনমেন্টটি ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল হয়ে নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী প্রস্তাবিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ২৪ কি.মি.। এটি নির্মিত হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাইপাইল হয়ে নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত সংযোগ স্থাপিত হবে। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়েটি প্রায় সব জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গেও সংযুক্ত হবে।

আজকের সভায় আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এটি হলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান এ বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিমান পরিবহনের চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও সুবিধাদি নিশ্চিত করা যাবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের বছরে ৮ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে পরিবহন চাহিদা বিবেচনায় এর অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। বর্তমান প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের মাধ্যমে আধুনিক পাঁচস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছ না। অনুমোদিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ২ হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৯ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ১১ হাজার ২১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা জাইকা।

ভৌগোলিক এবং অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় আজকের একনেক বৈঠকে অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি হচ্ছে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে কুমিল্লার টমছমব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যমান আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ করা হবে। ফলে টেকসই, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক অবকাঠামো এবং সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

আজকের সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এটি হলো বালাশী ও বাহাদুরাবাদে ফেরিঘাটসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ প্রকল্প।

এ প্রকল্পের অধীনে যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে বালাশী এবং পূর্ব তীরে বাহাদুরাবাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ফেরি সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে ফেরিঘাট নির্মাণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ এতদাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে।

বালাশী এবং বাহাদুরাবাদ ঘাট যথাক্রমে গাইবান্ধা জেলার ফূলছড়ি উপজেলা ও জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। বর্তমানে এ অঞ্চলের জনগণকে প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আশেপাশের জেলায় এবং নিজেদের মধ্যে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন করতে হয়। ফলে অর্থ ও সময় অপচয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয়।

বালাশী ও বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট নির্মাণ করা হলে অত্র অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ২য় মাধ্যম স্থাপিত হবে এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ হ্রাস পাবে।

একনেকে মঙ্গলবার অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো- বৃহত্তর ঢাকা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩। এ প্রকল্পটি উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃহত্তর ঢাকার ৬ জেলার (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। বৃহত্তর ঢাকার ৬ জেলায় রাস্তা, ব্রিজ/কালভার্ট, হাট-বাজার উন্নয়নের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকায় সহজে এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণ সুবিধা এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে।

এ ছাড়া প্রকল্প এলাকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি/অ-কৃষি অর্থনীতির সঞ্চালন, গ্রামীণ জনগণের জন্য গ্রাম, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন; টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কারিগরি জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কন্সট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় অনুমোদিত পাঁচ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৫৬৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১২ হাজার ৪০২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

 

পাঠকের মন্তব্য