ঢাকা, , ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

কার ভাগ্যে কত সিট ঠিক করবেন আল্লাহ : ওবায়দুল কাদের

Tuesday,24 October 17 08:05:18

আওয়ামী লীগকে ২৫ সিট দেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা কি ২৫ সিট দেয়ার মালিক? তাদের কি মনে নেই তারা যে বার আমাদের ৩০ সিট দেবে বলেছে, সেবার তারাই ৩০ সিট পেয়েছিল। ক্ষমতায় কে আসবে তা বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে। আর কার ভাগ্যে কতটি সিট তা ঠিক করবেন আল্লাহ।

সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি সহায়ক সরকার নিয়ে বারবার নাড়াচাড়া করছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সহায়ক সরকার নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়। তারপর (নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে) সেখানেও আপনারা এ ইস্যু নিয়ে গেছেন। সুষমা স্বরাজ কিন্তু সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এমন কোনো আশাবাদ তো দেননি। যতটুকু শুনেছি এ প্রশ্ন করার পর ‘তিনি (সুষমা স্বরাজ) বলেছেন, আমাদের দেশে ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন তো এভাবেই হয়।’ মানে হলো যারা ক্ষমতাসীন সরকার তারাই সহায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করেন।

আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে কাদের বলেন, এত অতিরিক্ত আশাবাদের পরও নির্বাচনে আসেন, আমাদের অনুরোধ। প্লিজ নির্বাচন বয়কট করবেন না। জাতীয় ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা চাই সব দল নির্বাচনে আসুক। তারা (বিএনপি) নির্বাচনে আসবে এটা জনগণেরও প্রত্যাশা, আমাদেরও প্রত্যাশা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি আশাবাদী দলটির মহাসচিবের এমন বক্তব্য কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি (সুষমা স্বরাজ) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের সাথে দেখা করেছেন। বিএনপির সাথে দেখা করে বলেছেন, আগামী নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে হওয়ার। তাতে ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আশাবাদী হয়েছেন, আমরা তো আশাবাদী। আমরাও একটা সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। শেখ হাসিনা বরাবরই এ কথাটা বলে আসছেন। এখন বিএনপি কেন আশাবাদী? তারা কখনও আশাবাদী আবার কখনও শ্রাবণের আকাশে কালো মেঘ তাদের মুখমণ্ডলে আসে।

সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, যে আশ্বাস দিয়েছেন তাতে আমরা আশাবাদী। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতেই হবে। তিনি কোনো দ্বিধা না করে কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে জোর অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কি কোনো নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়েছিল? নিজে যা চর্চা করে না, সেটা অন্যকে কেন বলবে? আমরা সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের বক্তব্য হলো সেনা মোতায়েন প্রয়োজনে হবে আইন অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন আইনানুযায়ী কোথাও করতে চাইলে তা করতে পারে। আমরা বিরোধিতা করিনি।

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের এক বছর পূর্তি প্রসঙ্গে অভিযাত্রা শেষ হয়নি। তিন বছরের জন্য নির্বাচিত। জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে। এ কমিটির চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনের ফলাফলে। ডেমোক্রেসি ইজ এ গেম অব নাম্বার। বিজয়ী হলে সফলতা প্রমাণ হবে।

৪২ লাখ সদস্য সংগ্রহ হয়েছে। খুব শিগগির এ সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যাবে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, হাছান মাহমুদ, আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএম মোজ্জাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী, আবদুস সোবহান গোলাপ, টিপু মুন্সি, ফরিদুন্নাহার লাইলী, আফজাল হোসেন, শাম্মী আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, অসীম কুমার উকিল, হারুনুর রশীদ, রোকেয়া সুলতানা, আমিনুল ইসলাম আমিন, বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, গোলাম রাব্বানী চিনু, এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ।

 

পাঠকের মন্তব্য