ঢাকা, , ২ ডিসেম্বর, ২০২০

কো-ইনসিডেন্স : সাহস রতন

Sunday,15 May 16 07:50:43

এখন আমি কী করব? আমার আসলে কী করা উচিত? বাসায় সবাই অপেক্ষা করছে। আমি ফিরলেই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে চায়। তারমানে সবাই মোটামুটি বুঝে গেছে ঘটনার রহস্য। কিন্তু ওদের সামনে দাঁড়াবো কোন মুখ নিয়ে? কিভাবে ফেস করবো সবাইকে। ছেলেকেই বা কী জবাব দেবো? আমি খুবই টেনসড্। ব্যাপক নার্ভাসও। জীবনের এই পর্যায়ে এসে ফেলে আসা অতীত এভাবে ফিরে আসবে ভাবতেও পারিনি। আয়নার দিকে তাকাতেই লজ্জা হয়। কত কিছু হতে পারতো। অনেক কিছুই হয়নি। আবার যা সব হয়েছে, যা কিছু পেয়েছি সেও তো কম না। সবকিছু যখন একেবারে ছিমছাম চলছিলো, তখনই এই উটকো ঝামেলা জীবনটাকে ওলট পালট করে দিতে চাচ্ছে। কিছুই হয়তো হতো না। যত ঝামেলা পাকিয়েছে একটা ছবি। ফেসবুকে আপলোড করা একটা ছবি দেখেই প্রথমে শুরু হলো ফিসফাস। দিনে দিনে তা রীতিমতো একটা কোলাহলে পরিণত হয়েছে।

জীবন আমাকে দিয়েছে অনেক। নিয়েছে যা তাও কম কিছু নয়। বাবা রাষ্ট্রের বড় কর্মকর্তা ছিলেন। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে আমি ছিলাম তৃতীয়। প্রাচুর্য্যরে মধ্যে শৈশব কৈশোর কেটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই যৌবনের শুরুতে স্বপ্নের দেশে পড়াশুনা করার সৌভাগ্য হয়েছে। ওখানেই আমার সমবয়সী ক্লাসমেট বাংলাদেশি রুমি’র প্রেমে পড়লাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দু’জনে একমত হয়ে বিয়ে করে ফেললাম। ওর-আমার পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই এটা ঘটে গেল। এমনকি কোনো বন্ধুও উপস্থিত ছিলো না আমাদের বিয়েতে। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে অসম্ভব রঙিন সেসব দিনগুলো কাটছিলো। তবে ঘোর লাগা নেশা কাটতেও বেশি সময় লাগলো না। বিয়ের ক’দিনের মাথায় বুঝতে পারলাম রুমি ড্রাগ এডিক্ট। যেমন হুট করে বিয়ে হলো তেমনি হুট করেই আবার তা ভেঙেও গেলো। তখন তো ফেসবুক, ইন্টারনেট কিছুই আসেনি। দুজনেই সিদ্ধান্ত নিলাম এই বিয়ের বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে কাউকে কিছু জানাবো না। তাও আমাদের পরিবার জেনে গিয়েছিলো। কিন্তু আমরা ব্যাপারটা ধামাচাপা দিতে পেরেছিলাম। বিয়ের সব ছবি আমরা পুড়িয়ে ফেলেছি। ফলে রুমি কিংবা আমি দুজনেই আমাদের দু’জনের পরিবারের কাছে অপরিচিতই রয়ে গেলাম।

আমি খুব যে মহাসুন্দুরী তা বলবো না। তবে আয়নায় যতবার নিজেকে দেখেছি মুগ্ধ হয়েছি। আমাকে সুন্দর আর আকর্ষণীয় শারীরীক গঠন দিয়ে তৈরি করার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। আমার ফিগারের প্রশংসা এই জীবনে কত অসংখ্যবার যে শুনেছি তার ইয়ত্তা নেই। অন্য আর দশজন বাঙালি রমণীর মতো গৃহমুখী স্বভাব আমার না। আমি বরং শারীরীক, মানসিক এবং জৈবিক সবদিক থেকে অনেক এগ্রেসিভ। এটা জন্মগতভাবেই। বড়দের কাছে শুনেছি আমার চরিত্রে নাকি মায়ের প্রভাব বেশি।


প্রথম বিয়ে ভেঙে দিয়ে পড়াশুনা শেষ না করেই ঢাকা ফিরে এলাম। এটাও প্রায় বিশ বছর আগের কথা। কিছুদিন কাটলো নিঃসঙ্গ। বাসায় একাকী। কারো সাথে কোনো কথাই হতো না। বাসায়ও কেউ খুব একটা ঘাঁটাতে চাইতো না আমাকে। এরমধ্যে বাবা পৃথিবী ছাড়লেন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেল। বড় ভাইও ইউরোপে স্যাটেল করলেন। বাসায় আমি, মা আর ছোট ভাই।


বইয়ের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে সবকিছু ভুলে থাকতে চাইতাম। জানতাম, টাইম ইজ দ্যা বেস্ট মেডিসিন। সময় সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। তবে ভুলতে চাইলেও মাঝে মাঝে প্রথম বিয়ের স্মৃতিগুলো মনকে ভীষণ পোড়াতো। ধীরে ধীরে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে নতুন করে আবার শুরু করলাম। ক্রেডিট ট্রান্সফার করে আবার ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। নতুন পরিবেশে, নতুন বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে বেশ কেটে যাচ্ছিলো সময়। মাস্টার্স কমপ্লিট করে একটা আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির এইচ.আর এন্ড এডমিন ডিপার্টমেন্টে এক্সিকিউটিভ হিসেবে জয়েন করলাম। অনেকদিন পর নিজেকে ফিরে পেয়ে চাকরিতে খুব সিনসিয়ারলি সময় দিচ্ছিলাম। শ্রম এবং সৌন্দর্য দু’য়ে মিলে দ্রুত প্রমোশনও পেয়ে গেলাম। তিন বছরের মাথায় আমেরিকান কোম্পানির এইচ.আর টিমের অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার বনে গেলাম।

আক্ষরিক অর্থেই সবকিছু সুন্দর কাটছিলো। এসময় পরিচয় হলো শাহীনের সাথে। আমার ইউনিভার্সিটি বান্ধবীর কাজিন। বান্ধবীর ইন্টারেস্টই ছিলো বেশি। শাহীন তখন একটা আন্তর্জাতিক ইন্সপেকশন কোম্পানির বাংলাদেশের একটা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। প্রতিদিন কথা হয়, দেখা হয়। সময় করে ডেটিং’এ যাই আমরা। শাহীনকে অতীতের সব কিছু বলেছি। ও মেনেও নিয়েছিলো। শাহীন আমাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখালো। আমরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম। দুই পরিবারের সম্মতিতেই খুব ধুমধাম করে বিয়ে হলো। মা, ভাই বোন সবাই আমার চেয়ে শাহীনকেই বেশি কাছে টেনে নিলো। আমি বুঝতাম এটা আসলে আমার প্রথম বিয়ের কারণেই। শাহীনের পরিবারও আমাকে বেশ সানন্দেই গ্রহণ করলো। জীবনটা আবারো রঙিন হয়ে উঠলো।

অতপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো। ঘটনা এভাবেই এখানে শেষ হতে পারতো। হলে আর কোনো ঝামেলাই ছিলো না। এতো কথাও লিখতে হতো না। এতো ভাবনাও মাথায় চেপে বসতো না। কিন্তু জীবন তো আর নাট্যকারের পাণ্ডুলিপি মেনে চলে না। নাটকের চেয়ে অনেক বেশি টুইস্ট বাস্তব জীবনে থাকে বলেই তো জীবন একই সঙ্গে এতো সুন্দর আর জটিল। শাহীনের সাথে বিয়ের বছর খানেকের মধ্যে ওর মধ্যে বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। সময় মতো বাসায় ফেরে না। আগের মতো ক্রিয়াশীলও নয় সে। কেমন যেন গুটিয়ে থাকে সারাক্ষণ। জৈবিক অপূর্ণতা আমার ভেতরের পশুটাকে টেনে আনতে চাইছিলো বাইরে। নিজেকে অনেক কষ্টে নিয়ন্ত্রণ করতে হতো। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে লাগলো। আমি আবিষ্কার করলাম শাহীন কড়া ড্রাগে ভীষণ রকম আসক্ত। নেশা শাহীনকে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে গেলো। সবকিছু পেয়ে হারানোর কষ্টে আমার বুকটা ভেঙে গেলো। পরিবারের সবাই ধরে নিলো আমিই কুফা। আমার কারণেই একটার পর একটা দুর্ঘটনা আমার জীবনে ঘটছে। কিন্তু আমি সত্যিই চেয়েছি শাহীনকে নিয়ে সুখে থাকতে। কিন্তু হলো না। আফসোস।

আমি আমার অফিস নিয়ে ব্যস্ত থাকি। শাহীন ওর অফিস আর ড্রাগ নিয়ে। কিন্তু কিছুতেই ড্রাগের কথা স্বীকার করতো না। ড্রাগ এডিক্টরা যা করে, ওর মধ্যে সেসব সিমটম স্পষ্টই দৃশ্যমান ছিলো। কিন্তু দিব্যি অস্বীকার করতো সবকিছু। দিনের পর দিন আমি মিলনবঞ্চিত থেকে বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করেছি। পাশেই সে দিব্যি নাক ডেকে ঘুমিয়েছে। এসব আমাকে একেবারে নিঃশেষ করে দিচ্ছিলো। কাউকে কিছু বলতেও পারছি না। এরিই মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করে সবার কাছে অপাংক্তেয় আমি। হতাশা আর শারীরীক অপ্রাপ্তি আমাকে তিল তিল করে শেষ করে দিচ্ছিলো। ঠিক এমন সময় হঠাৎ করে রুমির ফোন। পড়াশুনা শেষ করে ঢাকায় ফিরেছে কয়েক বছর আগে। ড্রাগ ছেড়ে দিতে পেরেছে। বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। এক মেয়ের বাবা এখন রুমি। কোথা থেকে আমার নাম্বার পেয়েছি জানি না। জানতেও চাইনি। ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কিছু বললো।

এর পর থেকে আমি অফিসে থাকার সময়টায় প্রায়ই ফোন দিতো। প্রথম দিকে পাত্তা না দিলেও শাহীনের উদাসীনতা আমার মনে রুমির জন্য জায়গা তৈরি করলো। সুপ্ত প্রেম আবার জেগে উঠলো। শাহীনের ড্রাগের মাত্রার সাথে পাল্লা দিয়ে রুমির সাথে আমার সখ্য বাড়তে থাকলো।

আমি আমার ছেড়ে আসা প্রথম স্বামীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে গেলাম। অনেক দিনের অতৃপ্ত শরীর রুমীর ছোঁয়ায় হিংস্র হয়ে উঠলো। সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিতে ইচ্ছে করতো তখন। এক দুর্নিবার আকর্ষণ আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো অনেক দূরে। যখন ঘোর কাটলো ততদিনে আমি কনসিভ করে ফেলেছি। রুমিকে জানালে ও সবকিছু ইজি ভাবে নিতে বললো। রুমির সাথে সম্পর্ক টিকে থাকলো শারীরীক কারণে।

এরমধ্যে আমি আগের চাকরি ছেড়ে একটা বৃটিশ মাল্টিন্যাশনালে এইচ.আর ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলাম। চাকরিতে বেশ ভালো করছিলাম। তিনবছরের মাথায় একইদিনে আমি প্রশোমন পেয়ে বৃটিশ কোম্পানিটির কর্পোরেট এইচ.আর ম্যানেজার হলাম এবং সন্তান জন্ম দিলাম। আমার প্রথম ও একমাত্র সন্তান, তুলি। সবাই জানলো এটা শাহীনের ঔরসজাত। কিন্তু আমি জানি তুলি আসলে রুমি আর আমার মিলনের ফসল।
মাত্রাতিরিক্ত ড্রাগের প্রতিক্রিয়ায় তুলির জন্মের চার বছরের মাথায় শাহীন হার্ট এ্যাটাকে মারা গেল। আমি পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে গেলাম। আমি থাকতাম শাহীনদের পৈত্রিক বাড়িতে, একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য হিসেবে। কয়েক মাসের মাথায় শাহীনদের বাসা ছেড়ে আমি তুলিকে নিয়ে মায়ের বাসায় চলে এলাম। সব মনোযোগ তুলিকে ঘিরে। সমস্ত ভালোবাসা উজার করে আমি তুলিকে মানুষ করে তুলতে চাইতাম। শাহীনের মৃত্যুর পর কিছুদিন দূরে দূরে থাকলো রুমি। কিন্তু একপর্যায়ে আবার যোগাযোগ শুরু হলো আমাদের। এবারে রুটিন করে মাসে দুইবার আমরা দেখা করি। সময় কাটাই। শারীরীক চাহিদা মেটাই।

রুমি নামকরা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর মালিক। স্বাস্থ্যবান ব্যাংক ব্যালেন্স। মোটা ওয়ালেট পকেটে। গাড়ি-বাড়ি আর ফাস্ট লাইফে অভ্যস্থ। তুলি এর মধ্যে এইচএসসি কমপ্লিট করেছে। সবকিছু বেশ চলছিলো। কিন্তু সুখ তো আমার কপালে নেই। অতিরিক্ত মেলামেশার কারণে রুমির স্ত্রী সম্ভবত আমাদের সম্পর্কের কথা আঁচ করতে পেরেছিলো। ফলে রুমির সাথে ছাড়াছাড়ি হয় ওর স্ত্রীর। আর ওর মেয়ে, নুহা রয়ে যায় রুমির কাছে।

আমরা দু’জনেই এখন একা। রুমির বউ নেই। আমি স্বামীহারা। বাচ্চারাও বড় হয়েছে। কিন্তু আমরা একা হয়ে পড়েছি। আমার ছেলে আর রুমির মেয়েকে বুঝিয়ে শেষমেশ আমি আর রুমি আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তবে আমার পরিবারের কেউই জানলো না যে, এই রুমিই আমার প্রথম স্বামী। রুমির বাসায়ও এটা গোপন থাকলো যে আমার সাথেই রুমির প্রথম বিয়ে হয়েছিলো। রুমির আগ্রহেই এবারের বিয়েটা বেশ ঘটা করেই হলো। দেশের বাইরে থেকে আমার ভাই-বোন’রা এলো।
বিয়ের গ্রুপ ছবি ফেসবুকে পোস্ট করতেই আমার এক মামা কমেন্ট করলেন- বাহ্ তুলির সাথে ওর নিউ ফাদার ইন-ল এর চেহারা দেখি অনেক মিল। সিরিয়াস কো-ইনসিডেন্স, ইন্টারেস্টিং। ক্যামনে কী?।
স্ট্যাটাসকে দেখেই আমার কলিজাটা একটা মোচড় খেলো। আমি রুমিকে দেখালাম। রুমি হেসে উড়িয়ে দিতে চাইলো। কিন্তু আমার বুকটা দুরুদুরু করতে থাকলো। বিয়ের ছ’দিনের মাথায় আমার ডটার ইন-ল মানে রুমির মেয়ে নুহা, নতুন একটা ছবি আপলোড করলো ফেসবুকে। পেছনে হাত রেখে রুমি আর তুলি হেঁটে যাচ্ছে, পেছন থেকে তোলা ছবি। দু’জনের হাঁটার ভঙ্গি হুবহু এক।
প্রথম ছবিটা আপলোড করার পর সবাই একটু নড়েচড়ে বসেছিলো। দ্বিতীয় ছবিটা দেখার পর সবাই একরকম নিশ্চিত হলো যে, কোথাও কিছু একটা গণ্ডগোল আছে। তৃতীয় স্বামীর চেহারা এবং হাঁটার ভঙ্গির সাথে দ্বিতীয় স্বামীর ঔরসজাত সন্তানের এতো মিল কি করে সম্ভব? এটা নেহাতই কাকাতালীয় নয়।

আমি বাসায় ফিরছিলাম নিজে ড্রাইভ করে। সবাই অপেক্ষা করছে আমার জন্য। মাথার ভেতর অসংখ্য পোকা কিলবিল করছিলো। এরমধ্যে তুলি কয়েকবার ফোন দিয়েছে। কী বলবো আমি সবাইকে? সত্যিটা বলবো? বলতে পারবো? এতো সাহস আছে আমার? এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে আনমনা হয়ে পড়েছি খেয়াল করিনি। তেজগাঁও ফ্লাইওভার থেকে নেমে বিজয় স্মরণি সিগনালে লাল বাতিতে দাঁড়িয়ে আছি। বাতি সবুজ হতেই আমি সোজা পশ্চিমে চলতে শুরু করলাম। হঠাৎ সব ধরনের নিয়ম ভেঙে দক্ষিণ দিক থেকে একটা টয়োটা প্র্যাডো এসে আমার গাড়ির বাঁ দিকের সামনের দরজা বরাবর ধাক্কা মারলো। এরপর আমার কিছু মনে নেই। 
-হ্যালো, আপনি তুলি বলছেন?
-জি
-আপনি একটু হাসপাতালে আসবেন?
-কেন? কি হয়েছে?
-আপনার মা এক্সিডেন্ট করেছেন।

দুই দিন পর আমার জ্ঞান ফিরলো। চোখ মেলে আমি আশেপাশে কাউকেই খুঁজে পেলাম। দেয়াল ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে পাঁচটা। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। বুঝলাম ভোর হয়ে এসেছে। একটু পরই সকাল হবে। নতুন সূর্যের আলোয় সব অন্ধকার কেটে যাবে। আমার জীবনেও কি তেমন আলোকিত সকাল আসবে আজ?

 

পরিচিতি: কথাসাহিত্যক সাহস রতন। পারিবারিক নাম নাজমুল হুদা রতন। জন্ম- ২৮শে বৈশাখ ১৩৬৯। বাবা প্রয়াত সামছুল হুদা ছিলেন শিক্ষক, সমাজকর্মী, রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মা প্রয়াত হোসনে আরা হুদা। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লা’র বরুড়া উপজেলায় ঝলম ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা শেষ করে কোরিয়া ও জাপানের বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করেছেন টানা একযুগ। এরপর উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা শুরু। গড়ে তুলেছেন, সাহস (স্বাবলম্বী হবো সবাই) নামের সামাজিক-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার অধীনে রয়েছে- সাহস ইনটেলেক্ট ডেভেলপমেন্ট স্কুল, সাহস লাইব্রেরি, সাহস পাবলিকেশন্স ও সাহস ডেভেলপমেন্টস্ লিমিটেড। লেখালেখির শুরু ২০১০ সাল থেকে। প্রথম গ্রন্থ ‘স্বপ্ন বাস্তবতার গল্প’ প্রকাশিত হয় ২০১১।

পাঠকের মন্তব্য