ঢাকা, , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘আপস করেনি বলেই খালেদার বিরুদ্ধে ৩৯ মামলা’

Tuesday,24 October 17 08:09:11

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান ফ্যাস্টি সরকারের সঙ্গে আপস করেননি বলেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা দেয়া হয়েছে। তাকে প্রতি সপ্তাহে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এখন কঠিন দুঃসময় চলছে। এটা শুধু মাত্র খালেদা জিয়া বা অন্য কারোর জন্য নয়, সমগ্র দেশের মানুষের জন্য কঠিন সময়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে গণ সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত জাতীয় বীর অলি আহাদ ও চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সভা সমাবেশ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেয় না। এমনকি ঘরের মধ্যে মিটিং করতে দেয়া হয় না। গণতন্ত্র কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এই জন্যই আমরা অধিকার ফিরে পেতে গণতন্ত্র চেয়েছি। আমরা বলি না আমরা ক্ষমতায় আসতে চাই। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে যারা গণতন্ত্রের কথা বলছে তারা মিথ্যা বলছে, জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ অতীতে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে কারও দয়া চাইবে না। বুকের রক্ত দিয়েই প্রতিষ্ঠা করবে। এ দেশের মানুষ মুক্তি চায়, গণতন্ত্র চায় মানুষের অধিকার চায় এবং খালেদা জিয়াকে তারা প্রতীক হিসেবে দেখে। সবাই জেগে ওঠে অধিকারগুলো আদায় করে নিতে হবে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, এ দেশের সবকিছু অর্জনের নেপথ্যে ছিল তরুণরা। সেই তরুণদেরই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে আসতে হবে। অনেকেই খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন। তার অনেক ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। তবে এই কথাটি তো সত্য, তিনি আরাম আয়েশ ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। তিনি সেই ব্যর্থ অবৈধ মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারকে মেনে নেননি। সেই জন্য তাকে ১৬ মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। বর্তমান ফ্যাস্টি সরকারের সাথে আপোষ করেননি বলেই তার বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা দেয়া হয়েছে, তাকে প্রতি সপ্তাহে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে এই স্বৈরাচারী সরকার জনগণের ওপর চেপে বসে আছে। তারপরেও খালেদা জিয়া এতটুকু আপোষ করেননি। আত্মসমর্পন করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের চিত্রই ফুটে ওঠেছে। ভবিষ্যতেও তিনি কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষ করবেন না।

রোহিঙ্গা সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে বড় ধরনের চক্রান্ত চলছে। তাই স্পষ্ট করে বলছি, রাজনীতি নয় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করলেই সরকারের হাত শক্তিশালী হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার একদলীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করে যেভাবেই হোক ক্ষমতায় থাকতে চায়। প্রধান বিচারপতি আর বক্তব্যে লিখেছিলেন ‘আমিত্য’। এই কথাটি আমি এর আগেও বলেছিলাম ‘আমি’ ছাড়া আর কেউ নেই, এই ‘আমিত্য’ ভাবটিই পুরো বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়েছে। পৃথিবীর সব দেশের নেতাদের নিয়ে কার্টুন হয়। আমাদের দেশে করা যাবে না। ৫৭ ধারায় আটকা পড়ে যাবেন। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

এ সময় প্রয়াত চলচিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম ও ভাষা সৈনিক অলি আহাদের স্মৃতিচারণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, তারা আমাদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন, পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, আজকে আমাদের সামনে সারা বিশ্বে নেতৃত্ব এমন মানুষের কাছে চলে গেছে যারা মানবতার কোনো গুরুত্ব দেয় না। তারা নিজেদের ভোগ বিলাস নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।

তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত সুপরিকিল্পতভাবে ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদগুলো নির্বাচন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধু এই সরকার নয়, পরম্পরায় দীর্ঘ দিন ধরেই ছাত্র সংসদগুলো নির্বাচন হচ্ছে না। ফলে নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। এই সমাজকে যদি পরিবর্তন করা না যায়, সমাজকে যদি পরিবর্তন করা না যায়, তাহলে মাওলানা ভাসানী বলেন আর অলি আহাদই বলেন, অন্যান্য দিকপাল যারা পৃথিবী বদলে দিয়েছেন তাদের অনুসরণ করা সম্ভব হবে না।

আদালতকে কুক্ষিগত করতে প্রধান বিচারপতিকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এ আলম মামুনের সভাপতিত্বে সভায় গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

পাঠকের মন্তব্য