ঢাকা, , ২৯ নভেম্বর, ২০২০

অধ্যাদেশ জারি নিয়ে বিতর্কে রাজস্থানের বিজেপি সরকার

Tuesday,24 October 17 09:18:20

অধ্যাদেশ জারি করা নিয়ে বিপুল বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু বিতর্কই নয়, গতকাল সোমবার রাজ্য হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে দুটি জনস্বার্থ মামলাও। অধ্যাদেশ বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে ভারতের এডিটরস গিল্ড। মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেকে সমালোচনায় বিদ্ধ করে কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, এমন ফরমান একবিংশ শতাব্দীতে অচল।

সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখে রাজস্থানের রাজে সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় কোনো মন্ত্রী, আমলা ও বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগের তদন্ত করতে হলে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি না মেলা পর্যন্ত আদালতও তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন না। ক্ষেত্রবিশেষে সেই অনুমতি পেতে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অধ্যাদেশে সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যমের ওপর রাশ টেনে বলা হয়েছে, সরকারি অনুমোদন পাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমেও ওই অভিযোগ নিয়ে একটি শব্দও লেখা যাবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামধামও প্রকাশ করা যাবে না। সরকারি এই নির্দেশ অমান্য করা হলে সাংবাদিকদের ২ বছর পর্যন্ত কারাবাস হবে।

গতকাল সোমবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশ-সংক্রান্ত বিলটি পেশ করা হয়েছে। আলোচনার জন্য বরাদ্দ হয়েছে তিন দিন। বিধানসভার মোট ২০০ আসনের মধ্যে বিজেপির রয়েছে ১৬২ জন বিধায়ক। অর্থাৎ, নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতায় অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করা শাসক দলের পক্ষে সম্ভব। তবে শাসক দলের দুই বিধায়ক ভবানী সিং রাজাওয়াত ও ঘনশ্যাম তিওয়ারি এই বিলের বিরোধিতা করেছেন।

কেন এই অধ্যাদেশ? রাজ্য সরকারের বক্তব্য, মন্ত্রী, আমলাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার একটা হুজুগ লেগে গেছে। তা রোখাই এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট বিলটি পেশ করা হলে বিরোধীরা তীব্র বিরোধিতা করেন। সচিন পাইলটের নেতৃত্বে কংগ্রেস বিধায়কেরা কালো কাপড় বেঁধে এই বিল পেশের বিরুদ্ধে রাজ্যপালের কাছে যাওয়ার সময় বাধা পান। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। বিধানসভায় বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেন বিজেপির একাধিক সদস্যও। রাহুল গান্ধী এক টুইটে মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেকে আক্রমণ করে বলেছেন, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, মনে রাখবেন আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি। এটা ২০১৭ সাল। ১৮১৭ নয়।’

চলতি বছরের শেষে রাজস্থান বিধানসভার নির্বাচন। নির্বাচনের আগে থেকেই সরকারি দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ভোটের আগে এই প্রবণতা ঠেকাতেই মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের এই অধ্যাদেশ আনার সিদ্ধান্ত। যদিও অধ্যাদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সোলি সোরাবজি ও প্রশান্ত ভূষণের মতো প্রবীণ আইনবিশারদেরা বলেছেন, আদালতে এই অধ্যাদেশ আদৌ টিকবে কি না সে বিষয়ে তাঁদের মনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ভারতের এডিটরস গিল্ড এক বিবৃতিতে রাজে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, যারা মিথ্যা মামলা রুজু করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এই অধ্যাদেশ সরকারি আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের অনৈতিক ও অবৈধ কাজকর্মে উৎসাহই শুধু দেবে না, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও রুদ্ধ করবে। সরকারের জানা উচিত, এই স্বাধীনতা ভারতের সংবিধান প্রদত্ত।  

পাঠকের মন্তব্য