ঢাকা, , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কেন্দ্রে পদ পেতে জেলা বিএনপি নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

Sunday,15 May 16 07:50:43

সিরাজগঞ্জ : কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির একাধিক নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। পদ পেতে তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস ও গুলশানে চেয়ারপারসনের অফিসসহ বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। 

এ নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তারা কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। জেলা থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী কমিটিতে কজন নেতা পদ পেতে যাচ্ছেন এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। জেলার ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের যেন সঠিক মূল্যায়ন করা হয় দলের চেয়ারপারসনের কাছে এটি তাদের চাওয়া।

বিএনপির গত নির্বাহী কমিটিতে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রথমে অর্থ বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। পরে তাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়। 

এছাড়া কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খানকে বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক, সাইফুল ইসলাম শিশিরকে গ্রাম সরকার বিষয়ক সহসম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, সাবেক এমপি এম আকবর আলী, সাবেক এমপি কামরুদ্দীন এহিয়া খান মজলিস, সাবেক এমপি মেজর মঞ্জুর কাদের (অব.), মেজর মোহাম্মদ হানিফকে (অব.) নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ দেয়া হয়।  

এবারও তারা পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে এদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল অবরোধে অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। মাঠে থাকা তো দূরের কথা জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে ঢাকায় অবস্থান করেন। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও নেই। এসব নেতারাও নির্বাহী কমিটিতে পদ পেতে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।  

বিএনপির বিগত নির্বাহী কমিটিতে পদ পাওয়া সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাবেক এমপি এম আকবর আলী এবং মেজর মোহাম্মদ হানিফের (অব.) বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কারাগারে আটক ছিলেন তারা। গত আন্দোলন সংগ্রামে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। দলীয় নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনার পাশাপাশি শক্ত হাতে রাজপথ ধরে রেখেছিলেন। এ কারণে ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলায় সফলভাবে পালিত হয়েছে। বিএনপির নতুন স্থায়ী কমিটিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে চায় সিরাজগঞ্জ বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। 

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম মিন্টু জানান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রাজপথের লড়াকু সৈনিক। তার দক্ষ নেতৃত্বের জন্য সিরাজগঞ্জে আন্দোলন সংগ্রাম সফল হয়েছে। একজন সফল নেতা হিসেবে তাকে আমরা স্থায়ী কমিটিতে দেখতে চাই। 

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জন জানান, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের পদ পাওয়া উচিত। চেয়ারপারসনের কাছে আমাদের দাবি থাকবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাইকে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে দেয়া। কারণ এবারের আন্দোলন সংগ্রামে টুকু ভাইয়ের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।

পাঠকের মন্তব্য