MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
কঠোর অধ্যবসায় ও মেধার জোরে চাঁদপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পড়াশোনা করে এবার বিশ্বমঞ্চে অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন সানজিদা আক্তার তুলি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী ‘টুলেন ইউনিভার্সিটি’তে (Tulane University) সরাসরি গণিত বিষয়ে ডক্টরাল বা পিএইচডি (PhD) গবেষণার বিরল সুযোগ পেয়েছেন। এই উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকার সমমূল্যের একটি শতভাগ পূর্ণাঙ্গ মেধা বৃত্তি (Full Scholarship) অর্জন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অফার লেটার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফল (Fall) সেমিস্টার থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্সে অবস্থিত টুলেন ইউনিভার্সিটির স্বনামধন্য ‘স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর গণিত বিভাগের ডক্টরাল প্রোগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই পিএইচডি প্রোগ্রামে সব সুবিধার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
বৃত্তির আর্থিক বিবরণী ও সুযোগ-সুবিধা: সানজিদার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, টুলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ভর্তি ও সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত অফিশিয়াল চিঠি অনুযায়ী, তিনি প্রতি শিক্ষাবর্ষে লিভিং স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন বিশেষ গবেষণা সহায়তা বাবদ নগদ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন। এর পাশাপাশি পূর্ণকালীন ডক্টরাল গবেষক শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে, যার বার্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য ৬৫ হাজার ৪ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া পড়াশোনাকালীন তাঁর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার (Health Insurance) শতভাগ ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সানজিদা আক্তার তুলি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নবুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অজুফা সরকারের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
সানজিদার শিক্ষাজীবনের শুরুটা হয়েছিল নিজ গ্রামের নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি মান্দারতলী মুজাদ্দেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগ থেকে তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
নিজের এই অসামান্য বৈশ্বিক অর্জন সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সানজিদা আক্তার তুলি বলেন, "একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বসেরা গবেষকদের সাথে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্নপূরণ। আমার বাবা-মায়ের নিঃশর্ত সমর্থন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম আমাকে এই গৌরবোজ্জ্বল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। আমি চাই আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে মেয়েরা এটা দেখুক ও বুঝুক যে—মানুষের জন্মস্থান কোথায় তা বড় বিষয় নয়, নিজের লালিত স্বপ্ন আর সততাপূর্ণ অধ্যবসায়ই মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য নির্ধারণ করে।"
মেধাবী সানজিদা তুলির এই অভাবনীয় ও চোখ ধাঁধানো সাফল্যে তাঁর পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, সানজিদার এই বৈশ্বিক অর্জন মতলব উত্তরসহ পুরো চাঁদপুর জেলার তরুণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখতে এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।