MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী ও আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নতুন কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম সংস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এবার সম্পূর্ণ মূল্যবোধভিত্তিক কাঠামোর ওপর পুনর্গঠন করা হবে। পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে নতুন কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
গত রোববার (২১ জুন) রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (DPE) সম্মেলন কক্ষে প্রাথমিকের কারিকুলাম নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আগামী ২০২৮ সালের মেগা কারিকুলাম সংস্কারের মূল যাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নতুন এই শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাস্তব শেখার সক্ষমতা, পাঠদক্ষতা, প্রাথমিক গণিত দক্ষতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ বাস্তব শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।"
শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি ও রিডিং স্কিল নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো ক্লাস টু বা ক্লাস থ্রির একজন শিক্ষার্থীকে যেকোনো সাধারণ বই পড়তে দিলে সে যেন তা নিজে সাবলীলভাবে বুঝে পড়তে পারে, নিজের ভাষায় তা প্রকাশ করতে পারে এবং জোরপূর্বক মুখস্থ না করে শেখার প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী হয়। নতুন কারিকুলামে প্রতিটি শ্রেণির জন্য স্পষ্ট ‘লার্নিং আউটকাম’ (Learning Outcome) এবং পঞ্চম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীদের অর্জনযোগ্য চূড়ান্ত দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্রোফাইল’ নির্ধারণ করা হবে। এর আলোকেই সব পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা, আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ও নতুন শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে।"
তিনি আরও জানান, নতুন কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভিডিও লেসন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং সহায়কমূলক আকর্ষক শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক (Pre-Primary) স্তরের শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে বইয়ের বোঝা মুক্ত করে খেলাধুলা, চিত্তবিনোদন ও আনন্দভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতির ওপর পরিচালনা করা হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের এক মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, "স্মার্ট ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে আগামী ১ বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নত ‘ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল’ (Interactive Flat Panel) বা ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড প্রদান করা হবে। এবং পর্যায়ক্রমে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি ক্লাসরুমে এই ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল স্থাপন সম্পন্ন করা হবে।" এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও আধুনিক অডিও-ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে ক্লাস করার সুযোগ পাবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE), ব্র্যাক (BRAC) শিক্ষা কর্মসূচি, গণসাক্ষরতা অভিযান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর শীর্ষস্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সরকারের এই সময়োপযোগী ও আধুনিক শিক্ষাক্রম সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।