MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশের বাজারে চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরকারের কাছে চাল ও গমের সন্তোষজনক মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মক্তাদির। গত বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর বাবুবাজারের পাইকারি চালের আড়ত এবং নয়াবাজারের খুচরা চালের বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
বাজার পরিদর্শনের প্রেক্ষাপট ও দামের বাস্তব চিত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি একটি জাতীয় সংবাদপত্রে চালের বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরিস্থিতির সত্যতা যাচাই করতে তিনি ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নিজে সরাসরি মাঠে নামেন। বিভিন্ন পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকান ঘুরে তারা দেখতে পেয়েছেন, চালের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। ব্যবসায়ীদের বরাতে মন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার পর কোনো কোনো চালের দাম কেজিপ্রতি এক থেকে দেড় টাকা বাড়লেও, তা বাজারে বড় ধরনের কোনো মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় না। কিছু মিলমালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালালেও বাজারে তা কার্যকর হয়নি এবং পরবর্তীতে তা আবার কমে এসেছে। নতুন ও পুরোনো চালের মধ্যে এক-দুই টাকার ওঠানামা বাজারের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা মাত্র।
ভোজ্যতেল ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য সকল পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিদিন সরকারের বিভিন্ন তদারকি সংস্থার মাধ্যমে বাজারের ডিজিটাল মূল্যতালিকা ও সরবরাহ চেইন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাজেট-পরবর্তী মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মুদ্রাস্ফীতির হিসাব একটি ভিত্তিমূল্যের ওপর নির্ভর করে। গত কয়েক মাস ও আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেশের খাদ্যপণ্যের বাজার বর্তমানে অনেক বেশি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
সরকারের কাছে ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের মজুত: খাদ্যশস্যের সরকারি মজুতের বিষয়ে আশ্বস্ত করে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, "সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের বিশাল মজুত রয়েছে, যা নির্ধারিত আপৎকালীন মজুতের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে চলমান সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই মজুত প্রতিনিয়ত আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।" বাণিজ্যমন্ত্রী যোগ করেন, ভবিষ্যতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে বা সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ওএমএসসহ (OMS) বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সে ধরনের কোনো ঘাটতি বা আপৎকালীন প্রয়োজন দেখা দেয়নি। ফলে চালের বাজার নিয়ে সাধারণ জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।