লাভলু সরকার | Times News 24 | Fast Online News Portal | বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে না থাকায় বিএনপি এবার জামায়াতে ইসলামীকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করছে। দীর্ঘদিন জোটসঙ্গী হিসেবে থাকা জামায়াতের সঙ্গে এখন রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই বাস্তবতায় বিএনপি প্রতিটি আসনে একজন করে
যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ ইমেজসম্পন্ন
প্রার্থী দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে।
দলটি মনে করছে, এবারের
নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা হবে
বড় ফ্যাক্টর। তাই নতুন প্রজন্মের
আকাঙ্ক্ষা, গণআন্দোলনের চেতনা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে
গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী তালিকা
তৈরি করছে বিএনপির হাইকমান্ড।
একক
প্রার্থী চূড়ান্তে ‘গ্রিন সিগন্যাল’
বিএনপির
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলটি আগেভাগেই দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের
‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিচ্ছে। যাতে তারা এলাকায়
প্রচার ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে
এগিয়ে থাকতে পারে। ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্য থেকেও কিছু
প্রার্থীকে এই অগ্রাধিকারের আওতায়
রাখা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই
প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে তফসিলের পর
চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা
হবে।
জামায়াতের
কৌশলে নজর
জামায়াতে
ইসলামীর একক প্রার্থী ঘোষণা
এবং তৎপরতা বিএনপিকে কৌশলগতভাবে সজাগ করেছে। জামায়াতের
নারী ভোটারকেন্দ্রিক প্রচার, গ্রামীণ সংগঠন কাঠামো ও ভোটার ম্যানেজমেন্ট
প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে রেখেছে বিএনপি। যদিও দলটি বিষয়টিকে
উদ্বেগের জায়গা হিসেবে দেখছে না, বরং রাজনৈতিক
প্রতিযোগিতা হিসেবে নিচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “ইলেকশন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এতে উদ্বেগের কিছু
নেই।”
বৃহত্তর
নির্বাচনী জোটের চেষ্টা
বিএনপি
নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের বাইরে
ইসলামি দল, আলেম, পীর-মাশায়েখ ও কওমি মাদ্রাসা
সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রাথমিক
সমঝোতা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পাশাপাশি গণআন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গেও যোগাযোগে
রয়েছে দলটি।
প্রার্থী
বাছাইয়ে তরুণদের প্রাধান্য
বিএনপি
এবার সাবেক ছাত্রনেতা, পেশাগতভাবে দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনসম্পৃক্ত এমন
প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন
না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে হাইকমান্ড।
দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, অন্তত
১০০ আসনে এবার নতুন
মুখ দেখা যেতে পারে।
স্থায়ী
কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যে
প্রার্থী এলাকায় সবচেয়ে জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং আন্দোলনে ভূমিকা
রেখেছেন—তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।”
সিলেটে
মহাসচিবের বৈঠক
রোববার
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের প্রায়
৮০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে
পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে
প্রত্যেককে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—যাকে দল
মনোনয়ন দেবে, তার জন্য সবাইকে
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে
কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী জানান, এখনো কোনো একক
প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। তবে জরিপ, জনপ্রিয়তা,
সাংগঠনিক তৎপরতা ও প্রভাব বিবেচনায়
নিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
বৈঠকে
সাবেক মেয়র আরিফুল হক
চৌধুরী বলেন, তিনি সিলেট-১
আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী, যদিও তাকে ডাকা
হয়েছিল সিলেট-৪ আসনের সম্ভাব্য
প্রার্থী হিসেবে। এ ছাড়া দেশের
বাইরে থাকায় সিলেট-১-এর খন্দকার
মুক্তাদির ও সুনামগঞ্জ-২-এর নাছির উদ্দিন
চৌধুরী উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ঐক্যের
বার্তা
বৈঠকে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বার্তা
দেওয়া হয়, “দলীয় জরিপের
ভিত্তিতে জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। কেউ বিভক্তি
সৃষ্টি করলে তাকে সাংগঠনিকভাবে
কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “মহাসচিব বলেছেন, যোগ্যতম প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন। সবাইকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।”
বিএনপি
এবার নির্বাচনকে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়,
রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের সুযোগ হিসেবেও দেখছে। তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব,
স্বচ্ছ নেতৃত্ব এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপটে জোট গঠন—সব
মিলিয়ে বিএনপি এক নতুন কৌশলগত
রূপরেখায় এগোচ্ছে। দলের লক্ষ্য, নির্বাচনী
মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি
করে একটি গ্রহণযোগ্য ও
প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।