জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন, দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে দুই দিনের নতুন রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’।
গত সোমবার (২২ জুন) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য ও ব্রিফিং পেশ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্বনির্ধারিত দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২৩ ২৩ জুন) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আগামী ৪ জুলাই দেশব্যাপী সব জেলা সদরে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে জোটটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জোটের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি দীর্ঘ ৩৬ দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠাতব্য জোটের পরবর্তী শীর্ষ বৈঠকে এই রূপরেখাটি চূড়ান্ত করে দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. হামিদুর রহমান আযাদ ২৩ জুন পলাশী ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করে বলেন, "১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত পরাজয় শুধু একটি সাধারণ যুদ্ধের পরাজয় ছিল না; এটি ছিল আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার এক করুণতম অধ্যায়। বর্তমান বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি গভীর বিশ্লেষণ করলে আমরা এর সাথে উদ্বেগজনক কিছু মিল দেখতে পাই। দেশে নতুন করে আবারও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।"
সীমান্তে চলমান অস্থিরতা ও হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জোটের এই সমন্বয়ক বলেন, "সীমান্তে প্রতিনিয়ত হত্যা, অপহরণ ও সাধারণ কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান কূটনৈতিক প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব।"
একই সাথে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচারের ধীরগতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম বেশ ত্বরান্বিত করলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বিচার বিভাগে নিজেদের দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে ট্রাইব্যুনালের গতি সম্পূর্ণ শিথিল করে দিয়েছে। ফলে গণহত্যার বিচার এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনগণের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনরায় মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।"
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির দপ্তর সম্পাদক মিরাজ খান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলম প্রমুখ।
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।