শাকীরিন | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বিএনপি
দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থী
বাছাই, তৃণমূলে সভা-সমাবেশ এবং
ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ শুরু করেছে মাসখানেক
আগে। তবে এবার বিএনপি
এমন এক সময়ে নির্বাচনি
প্রস্তুতি শুরু করেছে যখন
মাঠে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেই। দলটির
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নেওয়াও অনিশ্চিত।
এমন অবস্থায় বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে চলে এসেছে বিএনপিরই একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী। দলটি নির্বাচনের প্রার্থী নির্দিষ্ট করে প্রস্তুতি শুরু করেছে আরও প্রায় বছরখানেক আগে। যদিও অতীতে নির্বাচনে দলটির যে ভোট তাতে করে জামায়াত বিএনপিকে আদৌ কোনো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবে কি-না, সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে মাঠপর্যায়ে জামায়াতকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপের ফলে জামায়াতের সমর্থন বিএনপির কাছাকাছি উঠে আসায় জামায়াতের নেতারাও বিভিন্ন সময় আগামী নির্বাচনে জয়ের আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
জামায়াত
বিভিন্ন দলকে নিয়ে বিএনপি
বিরোধী আলাদা একটি জোট তৈরির
চেষ্টাও করছে।
তবে
এর বাইরেও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরা ভোট দিতে যাবেন
কিনা কিংবা গেলে কোন দলকে
সমর্থন করবেন, সেটাও নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে
বলে অনেকে মনে করছেন। সিরাজগঞ্জের
উল্লাপাড়ায় ঝিকিরা মধ্যপাড়া গ্রাম। গত সোমবার সেই
গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,
ছোট্ট এক মাঠে বিএনপির
জনা পঞ্চাশেক কর্মী জড়ো হয়েছেন। বৈঠকটির
আয়োজক ছিলেন উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন
নেতা।
উঠান
বৈঠকে বিএনপির একত্রিশ দফা সম্বলিত লিফলেট
তুলে দেওয়া হয় কর্মী-সমর্থকদের
হাতে। দলের পক্ষে এবং
ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বানও
জানানো হয়।যদিও উল্লাপড়ার আসনটিতে দলের প্রার্থী নির্দিষ্ট
করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা
যায়, সেখানে অন্তত: ছয়জন সম্ভাব্য প্রার্থী
মাঠে আছেন দলীয় সমর্থন
পাওয়ার আশায়।
নির্বাচনের
প্রস্তুতি কেমন, এমন প্রশ্নে উল্লাপাড়া
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তৃণমূলে সব গ্রামে তারা
ছোট ছোট সভা ও
গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা
করছেন। বিএনপি যখন উঠান বৈঠকে
ব্যস্ত সেই একইদিনে জামায়াতকেও
দেখা যায় উল্লাপাড়ার করতোয়া
নদীর পাড়ে নিজস্ব কর্মসূচিতে।
তাদের আয়োজন অবশ্য নৌকাবাইচ।
নদীর পাড়ে বড় মঞ্চ বানিয়ে সেখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা যায় উল্লাপাড়ায় জামায়াতের প্রার্থী এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম খানকে।
মঞ্চের
পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে স্লোগান
দিচ্ছিলেন।
আর নদীতে চলছিল নৌকাবাইচ। দলটির উল্লাপাড়া উপজেলা আমীর শাহজাহান আলী বলেন, তারা প্রচারণা শুরু করেছেন একবছর আগে। তিনি বলেন, আমরা বলা যায় প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়েছি। কোনখানে বাদ রাখি নাই। সামাজিক কাজ, দলীয় প্রোগ্রাম, সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সবকিছুর মাধ্যমে দলের প্রার্থী মানুষের কাছে গেছেন। ভোটের জন্য এজেন্ট নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের কাজও আমাদের শেষের পথে।
জামায়াত
কি বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে?
কিন্তু
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মাঠে কার্যত:
আওয়ামী লীগ নেই।অন্যদিকে একক
প্রার্থী ঠিক করে আগেভাগেই
প্রস্তুতি শুরু করায় জামায়াত
মনে করছে তাদের অবস্থান
এমনকি নির্বাচনে জেতার মতো পর্যায়ে চলে
গেছে।‘আমরা এখানে শুধু
জিতবো না বরং দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ইনশাআল্লাহ জয়ী
হবো বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে
কথা বলছিলেন উপজেলা জামায়াত আমির শাহজাহান আলী।