মালয়েশিয়ায় দুই দিনের অত্যন্ত সফল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর শেষে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ভিভিআইপি (VVIP) ফ্লাইট গত সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে দালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান। পরে বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কড়া নিরাপত্তায় মোটর শোভাযাত্রার (মোটরকেড) মাধ্যমে হোটেল শাংগ্রি-লা’তে নিয়ে যাওয়া হয়। দালিয়ানে তিনি দুই দিন অবস্থান করবেন। এর আগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীনের দালিয়ানে দুই দিন অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে তিনি বিশ্বখ্যাত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’র বার্ষিক সভা, অর্থাৎ বহুল প্রতীক্ষিত ‘২০২৬ সামার দাভোস ফোরামে’ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন। দালিয়ান সফর শেষে তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন, যেখানে তাঁর এই সরকারি সফরের মূল দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো শুরু হবে।
চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় তথা ‘সোনালি ৫০ বছর’-এ প্রবেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, এ সফর অতীত অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণেও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করবে। আগামী ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।
এদিকে চীন সফরের ঠিক আগেই দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক একান্ত (ওয়ান-টু-ওয়ান) বৈঠকে মিলিত হন। এ ছাড়া দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাত সংক্রান্ত আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।