MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশজুড়ে তৃণমূল পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের এক মেগা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সাথে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থাকে প্রথাগত ‘ট্রিটমেন্ট সেন্ট্রিক’ (রোগের চিকিৎসানির্ভর) ধারা থেকে বের করে ‘প্রিভেনশন সেন্ট্রিক’ বা রোগ প্রতিরোধভিত্তিক আধুনিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আজ রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ের পুরাতন ১ নম্বর ভবনের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এক প্রশ্নের জবাবে এই বড় ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
লিসবন সম্মেলনে বাংলাদেশের রোডম্যাপ: ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, চলতি জুন মাসেই পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইফসের’ ৩৪তম আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে বাংলাদেশ সরকারের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনাটি বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতকে শুধু হাসপাতালনির্ভর না রেখে প্রতিরোধমূলক করতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উন্নত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট’ এবং প্রতিটি শহুরে ওয়ার্ডে একই ধরনের আধুনিক ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এসব কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রতিটি ইউনিটে অন্তত দুজন করে দক্ষ মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মিডওয়াইফ রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এই তীব্র সংকট কাটাতে আগামী এক বছরের মধ্যেই মোট লক্ষ্যমাত্রার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৮ হাজার) মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।
জনপ্রিয় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে ওঠা এক প্রশ্নের জবাবে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জোর দিয়ে বলেন, "কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কোনোভাবেই বাতিল করা হবে না। বরং বৃহত্তর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী ‘স্বাস্থ্য হাব’ (Health Hub)-এ রূপান্তর করা হবে।" প্রতিটি ইউনিয়নভিত্তিক স্বাস্থ্য ইউনিটের অধীনে তিনটি করে স্বাস্থ্য হাব থাকবে এবং সেখানে তিন থেকে চারজন করে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার কাজ করবেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের একটি মেগা প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ছাড় পেলে প্রাথমিক ধাপে দেশের পাঁচ জেলা—খুলনা, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নোয়াখালীতে পাইলট (পরীক্ষামূলক) কার্যক্রম শুরু হবে।
এই পাইলট প্রকল্পের অধীনেই দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড’ চালুর পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় ইতিহাস ও ব্যবস্থাপত্র ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে। কোনো রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই কার্ডের ডেটাবেস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগীকে উচ্চতর সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হবে, যার ফলে দেশের চিকিৎসা খাতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সাধারণ মানুষের অযথা হয়রানি চিরতরে বন্ধ হবে।