MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় পথচারীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়কারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আদাবর থানা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) শ্যামলী এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টাকালে এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ।
আজ বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন গণমাধ্যমকে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: ১. জাহিদ হোসেন (২০)
২. হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫)
৩. ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭)
৪. আরিফুল ইসলাম (২৩)
৫. মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০)
৬. সাকিব (২৪)
৭. সোহেল রানা (২৪)
৮. মো. নাঈম (২৩) এবং
৯. মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
আদাবর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাদমান সাকিব (২৭) নামের এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতরা আচমকা তার পথরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাটার শো-রুমের পেছনের একটি নির্জন গলিতে নিয়ে যায়।
সেখানে অপহরণকারীরা সাকিবের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একই সাথে তার পরিবারের কাছে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভিকটিম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও ধারালো ছুরি দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের একটি টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অপরাধীরা পালানোর চেষ্টা করলে, স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে ধাওয়া করে চক্রের মূল অন্যতম সদস্য জাহিদ হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের বাকি ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে শ্যামলী মোড়, রিং রোড এবং শ্যামলী হাউজিংসহ আশেপাশের ব্যস্ত এলাকায় সাধারণ পথচারীদের টার্গেট করে আসছিল। সুযোগ বুঝে নিরিবিলি স্থানে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করাই ছিল তাদের মূল কাজ।
উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।