MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
কাবো ভার্দের কাছে স্পেনের আটকে যাওয়ার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার হোঁচট খেল তাদের প্রতিবেশী দেশ পর্তুগাল। বুধবার বিশ্বমঞ্চের নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল ডিআর কঙ্গোর কাছে ১-১ গোলে আটকে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। তবে এই ড্রয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে দলের মহাতারকা রোনালদোর অফ-ফর্ম। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে খেলেও পুরো ৯০ মিনিটে এক প্রকার অদৃশ্য ছিলেন সিআরসেভেন (CR7)। আর এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ফুটবল মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি কি এখন পর্তুগাল দলের অবধারিত আশা-ভরসার প্রতীক, নাকি শুধুই একাদশের বয়ে বেড়ানো ‘বোঝা’?
মেসি-এমবাপ্পেদের বিপরীতে ম্লান রোনালদো: লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পে—এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের পাদপ্রদীপে থাকা সমসাময়িক তারকারা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন, যার মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বুধবারের ম্যাচে সবার স্পটলাইট ছিল পর্তুগিজ যুবরাজের ওপর। কিন্তু মাঠের খেলায় চরম হতাশ হতে হয়েছে সমর্থকদের। পুরো ম্যাচে রোনালদো যেভাবে খেললেন, তাতে তাকে ফর্মের কারণে নয়, বরং তাঁর নামের ভারে জোর করে প্রথম একাদশে রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর সঙ্গে তৎকালীন কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই ও সিআরসেভেনকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছিল। সান্তোসের বিদায়ের পর বর্তমান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁর দল হবে রোনালদোকে ঘিরেই। মার্তিনেজ তাঁর কথা রেখেছেন; ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর হাতেই তুলে দিয়েছেন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। কিন্তু ম্যাচ শেষে রোনালদো নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন—আদৌ কি তিনি নিজের জায়গার প্রতি সুবিচার করতে পেরেছেন?
দশ জনের দল ও স্কুল পর্যায়ের গাফিলতি: পরিসংখ্যান ঘাঁটলে পুরো ম্যাচে রোনালদো কয়টি কার্যকর বল ধরেছেন, তা হাতে গুনে বলা যাবে। তিনি না পেরেছেন কোনো আক্রমণ তৈরি করতে, না পেরেছেন সতীর্থদের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগাতে। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সিসকো কনসেসাও চমৎকার দুটি বল বাড়িয়েছিলেন রোনালদোর উদ্দেশে, যার অন্তত একটি থেকে গোল করা যেকোনো আন্তর্জাতিক স্ট্রাইকারের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু দুইবারই বলে ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে না পেরে মাঠে হুমড়ি খেয়ে পড়েন সিআরসেভেন। বয়সের কারণে উইংয়ে দৌড়ানোর গতি কমে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নেওয়ার ন্যূনতম রক্ষণাত্মক প্রয়াসও তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি। এক সময় মনে হচ্ছিল পর্তুগাল আসলে ১০ জনে খেলছে।
অথচ পর্তুগালের হাতে ব্রুনো ফের্নান্দেজ, ভিটিনহা, বের্নার্দো সিলভাদের মতো বিশ্বমানের মিডফিল্ডার রয়েছে, যারা নিজেদের ক্লাবে একক নায়কের মর্যাদা পান। পুরো ম্যাচে এই তারকাদের চিরচেনা বোঝাপড়া কোথাও চোখে পড়েনি। ভিটিনহা মাঠজুড়ে কঠোর পরিশ্রম করে খেলা তৈরির চেষ্টা করলেও আশ্চর্যের বিষয় হলো—ম্যাচের শেষ দিকে তাকে তুলে নিয়ে নিষ্প্রভ রোনালদোকে মাঠেই রেখে দেন কোচ মার্তিনেজ। অন্যদিকে, পর্তুগালের রক্ষণভাগেও স্কুল পর্যায়ের গাফিলতি দেখা গেছে। ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে যখন কঙ্গোর ইয়োনে উইসা হেডে সমতাসূচক গোলটি করেন, তখন রক্ষণভাগে রেনাতো ভেগা এবং টমাস আরাউখোর বোঝাপড়ার তীব্র অভাব ছিল স্পষ্ট। ভিআইপি বক্সে বসে থাকা ডিফেন্ডার পেপে আর ডাগআউটে থাকা রিকার্ডো কার্ভালহো দূর থেকে হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবছিলেন—এ কোন পর্তুগাল দল!