MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘সি’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো। মাঠের লড়াইয়ে সেলেসাওদের ১-১ গোলে ড্র-তে রুখে দিয়ে লড়াকু এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তিরা। তবে এই ম্যাচেই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অদ্ভুত এক অনন্য রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ খ্যাত মরক্কো।
বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দল মাঠে এমন এক একাদশ নিয়ে খেলেছে, যার প্রতিটি খেলোয়াড়ই নিজ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন! অর্থাৎ, ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই ছিলেন মরক্কোর বাইরে জন্ম নেওয়া ফুটবলার।
ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত হয় ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ২০তম মিনিটে। মরক্কোর মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া মাঠের একমাত্র খেলোয়াড় আজুদিন উনাহিকে তুলে নেন কোচ। তার পরিবর্তে যখন সামির এল মৌরাবেতকে মাঠে নামানো হয়, ঠিক তখনই তৈরি হয় এই অভাবনীয় রেকর্ড। মৌরাবেতের প্রবেশের পর মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের কেউই মরক্কোয় জন্মাননি। সবাই ছিলেন প্রবাসী বা অন্য দেশে জন্ম নেওয়া মরক্কো বংশোদ্ভূত ফুটবলার।
ইতিহাসের এই বিশেষ মুহূর্তটি মাঠে স্থায়ী ছিল দীর্ঘ ২৪ মিনিট। পরবর্তীতে ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে মরক্কোয় জন্ম নেওয়া সুফিয়ান রাহিমি বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর এই রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটে। তবে এই ২৪ মিনিট ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সে সময় মাঠে থাকা মরক্কো দলের খেলোয়াড়দের জন্মভূমির তালিকাটি ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়:
ফ্রান্স (৪ জন): ইসা দিওপ, নেইল এল আয়নায়ুই, আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং সামির এল মৌরাবেত।
স্পেন (৩ জন): শাদি রিয়াদ, আশরাফ হাকিমি এবং ইসমাইল সাইবারি।
বেলজিয়াম (২ জন): শেমশাদিন তালবি এবং বিলাল এল খানোস।
নেদারল্যান্ডস (১ জন): নুসাইর মাজরাউই।
কানাডা (১ জন): গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।
ফুটবল বিশ্বে এমন প্রবাসী নির্ভর স্কোয়াড নিয়ে রেকর্ড গড়ার দৌড়ে সবার আগে নাম আসছিল ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের। চলতি রোববার জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। ২৬ সদস্যের কুরাসাও স্কোয়াডের মাত্র ১ জন খেলোয়াড় নিজ দেশে জন্মেছেন, বাকি ২৫ জনেরই জন্ম দেশের বাইরে। ফলে মরক্কো প্রথম দল হিসেবে এই কীর্তি গড়লেও, খুব দ্রুতই কুরাসাও এই তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।