MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বিশ্ববাসীকে স্বস্তি দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা, চরম উত্তেজনা আর নানামুখী নাটকীয়তার পর অবশেষে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করতে এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষর করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধ বন্ধের পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের দূরত্ব ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপ্রধানদ্বয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে (Digitally) এই চুক্তিতে নিজেদের স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন।
ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ও ম্যাক্রোঁর ভিডিও বার্তা: ফ্রান্সের প্যারিসের অদূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জোট জি–৭–এর শীর্ষ সম্মেলন পরবর্তী এক বিশেষ নৈশভোজের সময় এই সমঝোতা স্মারকটিতে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডিজিটাল মাধ্যমে চুক্তি সইয়ের সময় ট্রাম্পের পাশে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ফরাসি ফার্স্ট লেডি ব্রিজিট ম্যাক্রোঁ উপস্থিত ছিলেন। পরে ভার্সাই প্রাসাদ ছাড়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেশ উৎফুল্ল কণ্ঠে বলেন, "চুক্তিটি অবশেষে সই হয়েছে। ভার্সাইতে বসে আমি নিজেই এটায় সই করেছি।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারকে সই করার একটি এক্সক্লুসিভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লেখেন, "আজ রাতে ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছেন।" হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই শান্তিচুক্তির মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ক্রয় করবে না, মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত ফ্রন্টে চলমান প্রক্সি ও সরাসরি যুদ্ধাবস্থার স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ইরানের নিশ্চিতকরণ: এদিকে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি তেহরানের পক্ষ থেকেও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই সমঝোতা স্মারকে সই করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA)-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "সমঝোতা স্মারকটি দুই দেশের সদিচ্ছার ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক উপায়ে সই হয়েছে। তবে এটি নিয়ে নতুন করে বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা উদযাপনের পরিকল্পনা ইরানের নেই।"
মুখপাত্র বাঘাই আরও যোগ করেন, এই সমঝোতা সই করার মধ্য দিয়ে মূলত বহুল আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে’র খসড়াটি চূড়ান্ত রূপ পেল। এখন আর আলোচনার টেবিলে সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই, এখন কেবল এই চুক্তির প্রতিটি শর্ত মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সময় এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা পরমাণু ও নৌ-যুদ্ধের আশঙ্কার অবসান ঘটতে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য এক বিশাল সুসংবাদ।