MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
সন্তান হারানোর বুকফাটা অসহনীয় শোক পাথরচাপা দিয়ে এক অনন্য ও বিরল মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন সৌদি আরবের এক প্রবীণ বাবা। নিজের চোখের মণি ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী ঘাতকের ফাঁসি কার্যকরের মাত্র ১৫ ঘণ্টা আগে তাকে সম্পূর্ণ নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি। ঘাতকের জীবন ভিক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে প্রস্তাবিত লাখ লাখ রিয়ালের ‘ব্লাড মানি’ বা রক্তপণ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও ইসলামের সুমহান আদর্শ বুকে ধারণ করে এক পয়সাও নেননি এই পিতা। সম্প্রতি এই ঘটনার একটি চরম আবেগঘন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ব্লাড মানি প্রত্যাখ্যান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি: স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত সৌদি যুবকের নাম বন্দর এবং তাঁর হত্যাকারী বা অভিযুক্ত যুবকের নাম ইয়াসের। একসময় আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল থাকলেও ব্যবসায়িক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবনযাপন করেন নিহতের বাবা শেখ ইয়াহিয়া বিন কানস আল-বুশরি। কিন্তু নিজের অভাবের দিনেও কোটি টাকার সমপরিমাণ রক্তপণ বা অর্থকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন তিনি। শেখ ইয়াহিয়া স্পষ্ট করে জানান, কোনো পার্থিব অর্থ বা সম্পদের লোভে নয়, বরং কেবল মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও পরকালের অশেষ সওয়াব অর্জনের আশায় তিনি খুনিকে মন থেকে ক্ষমা করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘাতকের মায়ের কপালে চুমু ও এক আবেগঘন পরিবেশ: এই ক্ষমার আইনি বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিতে শেখ ইয়াহিয়া নিজেই সশরীরে হাজির হন ঘাতক ইয়াসেরের বৃদ্ধা মায়ের জরাজীর্ণ বাড়িতে। সেখানে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন আবেগঘন পরিবেশ। নিজের সন্তান নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার অলৌকিক খবর শুনে কৃতজ্ঞতায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ইয়াসেরের মা। তিনি পরম শ্রদ্ধায় শেখ ইয়াহিয়ার পায়ে চুমু খেতে এগিয়ে গেলে ইয়াহিয়া তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিবৃত্ত করেন। পরে মাতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং স্নেহ-শ্রদ্ধার অনন্য নিদর্শন হিসেবে ওই বৃদ্ধা মায়ের কপালে পরম মমতায় চুম্বন করে সান্ত্বনা দেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইয়ের জীবন ফিরে পাওয়ার খবর পেয়ে ইয়াসেরের অন্য ভাইয়েরাও সেখানে ছুটে আসেন। কান্নায় ভেঙে পড়া অপরাধীর স্বজনদের বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এই মহান পিতা। নিজের সন্তানকে চিরতরে হারানোর গভীর ক্ষত বুকে লালন করেও অপর এক মায়ের বুক খালি না করার এই নজিরবিহীন উদারতার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। নেটিজেনরা এটিকে আধুনিক পৃথিবীর বুকে মানবতা, সহমর্মিতা ও ক্ষমাসুন্দর মনের এক অনন্য ডিজিটাল মহাকাব্য হিসেবে অভিহিত করছেন।