MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
ওয়াশিংটনের সাথে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় আবারও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (IRGC)। তেহরানের দাবি, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি এই আগ্রাসন ও রক্তপাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া শান্তি চুক্তির শর্তের চরম ও স্পষ্ট লঙ্ঘন।
জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির কড়া নিষেধাজ্ঞা: আইআরজিসি-র নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। ওয়াশিংটনের দেওয়া যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এটি তেহরানের প্রথম পাল্টা পদক্ষেপ। কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি আসার চেষ্টা না করে—সেই বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে আইআরজিসি নেভি। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ এগিয়ে এলে তার নিরাপত্তার পূর্ণ ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট দেশ বা কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তাবে।
হুমকির মুখে জেনেভা চুক্তি: কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল লেবাননসহ 'সব ফ্রন্টে' ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা এবং কোনো ফি ছাড়া হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেওয়া। কিন্তু চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর লেবাননে ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ইরানের সামরিক নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের মিত্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানও হরমুজ প্রণালীর পরম সার্বভৌমত্ব ধরে রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অচল করে দিতে বাধ্য হবে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে আবারও বড় ধরণের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।