MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও স্থায়ী নির্দেশনাতে (এসওডি) দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে তা দ্রুত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ঢাকার মতো মেগা সিটিতে শুধু জানমালের ব্যাপক ক্ষতিই হবে না, বরং ভেঙে পড়তে পারে পুরো দেশের 'নার্ভ সেন্টার' খ্যাত রাজধানীর সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থা।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্ক’।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে বলেন, "রানা প্লাজা ছিল মাত্র একটি ১০ তলা ভবন। সেই একটি ভবন ধসের পর আমরা দেখেছি ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আড়াই হাজার মানুষের আহতের ভয়াবহ চিত্র। আল্লাহ না করুক, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মেগা সিটিতে যদি বড় ভূমিকম্পে ১০০ বা ২০০ ভবন একসাথে ধসে পড়ে, তবে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করাও কঠিন।" তিনি আরও বলেন, ঢাকা দেশের ২০ কোটি মানুষের কেন্দ্রবিন্দু। ভূমিকম্পে এখানকার বড় বড় হাসপাতালগুলো ধসে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
দুর্যোগকালীন দায়িত্বের আইনি অস্পষ্টতা দূর করার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, "আমাদের যে পুরোনো দুর্যোগ আইন রয়েছে, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে রিভিউ করা উচিত। এই খাতে কর্মরত আইনবিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং প্রকৌশলীরা বসে যদি আইনটি আপডেট করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করেন, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে সরকার তা বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেবে।" এ সময় তিনি জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর তাগিদ দেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দুর্যোগে মানুষ শুধু শারীরিকভাবেই আহত হয় না, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকরাও তীব্র মানসিক ট্রমার শিকার হন। আমাদের সামগ্রিক পরিকল্পনায় এই সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিংয়ের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে, যা যুক্ত করা জরুরি। তিনি ঢাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখ লক্ষ তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী ‘স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’ গঠন এবং তাদের পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ গবেষণা হাবের সম্ভাবনা: সরকার ও মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. এম. এ. মুহিত জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই গাজীপুরে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ‘ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ’ চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আরও বেশি ফিল্ড রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলা দরকার। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য ‘হাব’ হয়ে উঠতে পারে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ইউনিসেফের চিফ অব হেলথ ডা. মালাই আহমাদজাইসহ এ খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।