MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশে বৈশ্বিক মানদণ্ডের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং ও কারখানার অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগকারীদের যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে দিনের পর দিন ঘুরতে না হয়, সে জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ (One-Stop Window) ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ রোববার (২১ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড... ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অস্থায়ী লাইসেন্স ও সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাবসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় পর্যালোচনা করতে হয়। তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় বিলম্বিত না হয়, সে জন্য সরকার অস্থায়ী বা ‘প্রভিশনাল লাইসেন্স’ প্রদানের বিশেষ ব্যবস্থা করবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত তাদের প্রাথমিক অবকাঠামোগত কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার কারখানা পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের বারবার ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার মুখোমুখি হতে না হয়।
বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি নিয়ে সরকারের অবস্থান: বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) ও জ্বালানি নীতি বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রথাগত জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রমাণ করেছে যে ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে ঝুঁকিপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, দেশের গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ অবকাঠামোগতভাবে এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশনের জন্য প্রস্তুত নয়। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও দেশীয় ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।
বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্প্রসারণ: বৈঠকে জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।